ক্যালেন্ডারে এখনও মহালয়ার দিন ঘনিয়ে আসেনি। কিন্তু শহর জুড়ে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে পুজো-পুজো গন্ধ। আলোর সাজে সেজে উঠছে রাস্তাঘাট, ব্যস্ত প্যান্ডেল নির্মাণে কর্মীরা। আর এর মধ্যেই শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো উদ্বোধনী সফর। টানা চারদিন ধরে শহরের একাধিক নামী পুজোয় প্রদীপ জ্বালাবেন তিনি।
শনিবার বিকেলে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সূচনা হবে মুখ্যমন্ত্রীর এ বছরের পুজো কর্মসূচির। এটিই হবে মরসুমের প্রথম অনুষ্ঠান। পরদিন মহালয়ার দুপুরে নজরুল মঞ্চে যোগ দেবেন ‘জয় বাংলা’র সাংস্কৃতিক আসরে। সেখান থেকেই শুরু হবে তাঁর ব্যস্ত উদ্বোধন পরিক্রমা।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন নাকতলা উদয়ন সংঘ, ৯৫ পল্লি, যোধপুর পার্ক, বাবুবাগান এবং চেতলা অগ্রণীর পুজো।
২২ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ সোমবার তাঁর তালিকায় রয়েছে আলিপুর সর্বজনীন, চেতলা কোলাহল গোষ্ঠী, বেহালা নতুন দল, বড়িশা, হরিদেবপুর ৪১ পল্লি, অজেয় সংহতি, বসুপুর তালবাগান, বসুপুর শীতলা মন্দির, গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাব ও কালীঘাট মিলন সংঘ।
২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি আরও ঠাসা— মুদিয়ালি, শিবমন্দির, সমাজসেবী, বালিগঞ্জ কালচারাল, ত্রিধারা, ৬৬ পল্লি, বডামতলা, আদি বালিগঞ্জ, একডালিয়া এবং সিংহী পার্কে উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর টানা কর্মসূচির মাঝেই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে আবহাওয়া। আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে নিম্নচাপের আশঙ্কায়। মহালয়ার সকালে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। ফলে পুজোর মরসুমে ভিজে আবহাওয়া যে রীতি মতো ভোগান্তি বাড়াবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত।
অন্যদিকে শনিবার থেকেই উদ্বোধন শুরু হয়ে গেলে, সাধারণ মানুষ অনেকেই আগেভাগে মণ্ডপ দর্শনের সুযোগ পাবেন।
একইসাথে প্রতি বছর পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে ভিড়ের মাঝে বহু মানুষ হারিয়ে যান। নিখোঁজদের খুঁজে পেতে পরিবারকে পড়তে হয় দুর্ভোগে। এ বছর সেই সমস্যায় লাগাম দিতে বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে, যা কার্যকর থাকবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর অর্থাৎ পঞ্চমী থেকে নবমী পর্যন্ত।
সব মিলিয়ে মহালয়ার আগেই উৎসবের ঢাক বাজিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আলোর ঝলক, সাজসজ্জা, কুমোরটুলির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা— সব কিছুর সঙ্গে মিলেমিশে শহর কলকাতা ইতিমধ্যেই মেতে উঠেছে উৎসবের আনন্দে।




