কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :মুম্বাই ,২০ সেপ্টেম্বর :
‘খননকাজ শেষ প্রায় ৮৪ শতাংশ, তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের যাত্রী-স্বপ্নের কেন্দ্র ‘
ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাটির তলায় গড়ে উঠছে বুলেট ট্রেনের স্টেশন। জায়গা মুম্বইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্স (BKC)। শুক্রবার সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই খননকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ। প্রকৌশলীরা খুঁড়ে ফেলেছেন ৩২.৫ মিটার গভীর পর্যন্ত, যা প্রায় ১০তলা বাড়ির সমান।
কেমন হবে এই স্টেশন?
-
এটি হবে মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডরের একমাত্র আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন।
-
প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে মাটির নীচে প্রায় ২৬ মিটার গভীরে।
-
স্টেশনটিতে থাকবে তিনটি স্তর—কনকোর্স, প্ল্যাটফর্ম ও সার্ভিস ফ্লোর।
-
৬টি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে, প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ মিটার।
-
সরাসরি যুক্ত থাকবে মেট্রো লাইন 2B এবং এমটিএনএল ভবনের সঙ্গে।
-
প্রাকৃতিক আলো পৌঁছনোর জন্য থাকবে স্কাইলাইট, যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার জন্য প্রশস্ত কনকোর্স, আর প্ল্যাটফর্মে আধুনিক সুবিধা।
এক আধিকারিক জানান :
“মোট খননকাজ ১৮.৭ লক্ষ কিউবিক মিটার হওয়ার কথা। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৫.৭ লক্ষ কিউবিক মিটার সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।”
-
বেস স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ চলছে, যেটি নির্মাণের সবচেয়ে গভীর অংশ।
-
শুধু বেস স্ল্যাবের জন্যই ঢালা হবে ২ লক্ষ কিউবিক মিটার কংক্রিট। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫১ হাজার কিউবিক মিটার ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।
-
কলাম নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চ মানের M-80 গ্রেড কংক্রিট।
-
সাইটে বসানো হয়েছে ৩টি ব্যাচিং প্ল্যান্ট, প্রতিটি ঘণ্টায় ১২০ কিউবিক মিটার কংক্রিট তৈরির ক্ষমতাসম্পন্ন।
-
কংক্রিটের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আইস ও চিলার প্ল্যান্ট।
-
আধুনিক ল্যাবরেটরিতে চলছে নানা পরীক্ষা—জলের অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে দ্রুত ক্লোরাইড প্রবেশ পরীক্ষা—যা নিয়মিত বাইরের স্বনামধন্য ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে যাচাইয়ের জন্য।
যে সব কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ছে :
-
সেকান্ট পাইলিং
-
ক্যাপিং বিম
-
ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ
এসব কাঠামোগত কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পে গতি এসেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় হাই-স্পিড রেল কর্পোরেশন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রকল্প ভারতের বিশ্বমানের পরিকাঠামো নির্মাণের সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতিটি স্তরে। পাশাপাশি, জাপান এই যাত্রায় ভারতের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
স্টেশনটি চালু হলে মুম্বই-আহমেদাবাদ করিডরের যাত্রীরা পাবেন নতুন অভিজ্ঞতা। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পার হওয়া যাবে দুই শহরের দূরত্ব।
দ্রুতগামী, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহণ ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে ভারতের প্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড বুলেট ট্রেন স্টেশন।




