কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা / ইম্ফল ,২০ সেপ্টেম্বর :
গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার দাবিকে খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে—শুধু সামাজিক মাধ্যমে ভাসমান কিছু ভিডিও ক্লিপ বা পোস্টকে প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। ফলে, এফআইআর না-করা পুলিশ ও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকেই যথার্থ বলে ব্যাখ্যা করেছে হাই কোর্ট।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের মে মাসে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সম্পাদক অনির্বাণ ভট্টাচার্য শ্যামপুকুর থানায় এবং পরে কলকাতা পুলিশের ডিসিকে লিখিত অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগ, এক লাইভ কনসার্টে নচিকেতা এমন মন্তব্য করেছিলেন, যা ভগবান রামের ভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে এবং জনমানসে উত্তেজনা ছড়াতে পারে। কিন্তু পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলা দায়ের করেনি।
এর পর অনির্বাণ নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হন। সেখানে তিনি দাবি জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে।
এর পরেই নিম্ন আদালতের নির্দেশে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করে। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় :
-
অনির্বাণ ভট্টাচার্য নিজে সংশ্লিষ্ট কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন না।
-
তিনি সমাজমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো একটি ভিডিও দেখে অভিযোগ করেন।
-
কনসার্টটি আসলে কবে, কোথায়, কখন হয়েছিল তার কোনও তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
-
ওই থানা এলাকায় গত তিন বছরে নচিকেতার কোনও অনুষ্ঠানও হয়নি।
-
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও এ নিয়ে কোনও অভিযোগ আসেনি।
এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতেই নিম্ন আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়।
উল্লেখ নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাদের যুক্তি ছিল—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ঘৃণাভাষণ হলে আদালত ও পুলিশকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু এখানে সেই নিয়ম মানা হয়নি।
যদিও হাই কোর্ট শুক্রবার জানায়, অভিযোগে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্ত বলেন,
-
“শুধুমাত্র কিছু ক্লিপ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট প্রমাণ হতে পারে না।”
-
“অভিযোগে সময়, তারিখ, স্থান উল্লেখ নেই। তবে কীভাবে এফআইআর দায়ের করা সম্ভব?”
-
“জ়িরো এফআইআরের ব্যবস্থা থাকলেও ন্যূনতম তথ্য থাকতে হয়। এখানে তা অনুপস্থিত।”
-
“নচিকেতার বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে অন্য কোনও অভিযোগ বা বিশৃঙ্খলার প্রমাণও নেই।”
ফলে আদালত স্পষ্ট জানায়, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এই মামলায় কোনও এফআইআর করার যুক্তি নেই।
অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় গুরুত্বপূর্ণ এক দৃষ্টান্ত। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কোনও ভিডিও বা বক্তব্য নিয়ে সরাসরি এফআইআর করা যাবে না, যদি না তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত করা যাবে না।
যদিও নচিকেতা এই মামলার প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি, তবে সংগীতমহলে স্বস্তি ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শিল্পীর বক্তব্যকে প্রেক্ষিত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করলে তা ভিন্ন অর্থে গৃহীত হতে পারে। আদালতের রায়ে সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন ঘটেছে।




