কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২০ সেপ্টেম্বর :
‘পুজোয় দর্শনার্থীদের জন্য স্বস্তি: রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে ফেরি পরিষেবা ‘
‘ হাওড়া-কলকাতার মাঝে নদীপথে যাতায়াত আরও সহজ, দর্শনার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর ‘
দুর্গাপুজো মানেই আলোর ঝলক, মণ্ডপভ্রমণ আর শহরময় মানুষের ঢল। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এক চিরন্তন সমস্যাও—যানজট। শহরের রাস্তায় পা রাখলেই ভিড় সামলাতে হাঁফ ধরে যায়। সেই পরিস্থিতিতেই এবার পুজোয় দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিয়ে এগিয়ে এল হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি।
পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত টানা ছ’দিন ফেরি পরিষেবা চালু থাকবে রাত ১২টা পর্যন্ত। অর্থাৎ কলকাতায় মণ্ডপ দেখা শেষে রাত গভীর হলেও হাওড়া বা নদীর ওপারের দর্শনার্থীদের আর চিন্তা করতে হবে না।
হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম—এই সমস্ত জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর কলকাতায় আসেন পুজো দেখতে। অনেকেই হাওড়া স্টেশনে নেমে নদী পার হয়ে কলকাতায় ঢোকেন। তাঁদের সুবিধার জন্যই ফেরির সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ।
সমবায় সমিতির ডিরেক্টর অজয় দে জানান,
“যতক্ষণ যাত্রী থাকবেন, ততক্ষণ চালানো হবে লঞ্চ। যানজট এড়িয়ে দ্রুত কলকাতায় পৌঁছনোর জন্যই রাত পর্যন্ত এই বিশেষ পরিষেবা চালু রাখা হচ্ছে।”
কীভাবে চলবে লঞ্চ?
-
মোট ৮টি লঞ্চ নামানো হবে এই বিশেষ পরিষেবায়।
-
হাওড়া থেকে সরাসরি বাগবাজার, শোভাবাজার, আহিরীটোলা, গোলাবাড়ি রুটে যাতায়াত করা যাবে।
-
বাবুঘাট রুটেও পরিষেবা চালু থাকবে।
-
ভিড় বেশি হলে মধ্যরাতের পরেও ফেরি চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
দর্শনার্থীর ভিড় মাথায় রেখে ফেরিঘাটগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও থাকছে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে, যাতে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা না হয়।
পুজোর সময় বাস, মেট্রো, ট্যাক্সি—সবেতেই থাকে অতিরিক্ত ভিড়। তাই নদীপথে দ্রুত যাতায়াত দর্শনার্থীদের কাছে এক বড় স্বস্তি এনে দিচ্ছে। একদিকে সময় বাঁচবে, অন্যদিকে বাড়বে মণ্ডপ ভ্রমণের আনন্দ।
এবারের এই উদ্যোগ শহরতলি ও গ্রামের মানুষকে কলকাতার সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত করবে। ট্রেন ও মেট্রোর পাশাপাশি নদীপথও এবার হয়ে উঠছে পুজো ভ্রমণের অন্যতম ভরসার মাধ্যম।
কলকাতা সহ হাওড়ার এবং সাধারণ মানুষের কাছে এ এক অন্যরকম আনন্দ কারণ রাত যতই গভীর হোক, হাতের নাগালে ফেরি পরিষেবা থাকার আশ্বাস এবার দুর্গাপুজোর আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।




