কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২০ সেপ্টেম্বর :
মহালয়া মানেই শারদোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা। এদিন ভোরে রেডিওয়েতে *“জাগো দুর্গা”*র ধ্বনি থেকে শুরু করে কেনাকাটা, এমনকি প্যান্ডেল দর্শনের ভিড়—সবকিছুতেই বাঙালির উৎসবের আমেজ। কিন্তু এই দিনেই রেলের সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তা বাড়ল যাত্রীদের। খড়্গপুর ডিভিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর একাধিক ট্রেন বাতিল করা হবে।
খড়্গপুর ডিভিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মহালয়ার দিন নিম্নলিখিত ট্রেনগুলি চলবে না—
-
৬৮১২৩ খড়্গপুর–টাটানগর মেমু
-
৬৮০১৪ টাটানগর–খড়্গপুর মেমু
-
৬৮১২৭ চাকুলিয়া–টাটানগর মেমু
-
৬৮১২৮ টাটানগর–চাকুলিয়া মেমু
এর পাশাপাশি হাওড়া–ঘাটশিলা–হাওড়া এক্সপ্রেস (১৮০৩৩/১৮০৩৪) রবিবার ঘাটশিলার বদলে খড়্গপুর পর্যন্তই চলবে।
সেদিন হাওড়া–রাঁচি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (২০৮৯৭) খড়্গপুর–মেদিনীপুর–আদ্রা–পুরুলিয়া হয়ে রাঁচি যাবে। ফেরার পথে রাঁচি–হাওড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (২০৮৯৮) পুরুলিয়া–আদ্রা–মেদিনীপুর–খড়্গপুর হয়ে হাওড়ায় পৌঁছবে।
এই সিদ্ধান্তে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করলেও রেলের তরফে জানানো হয়েছে, “ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক” বা উন্নয়নমূলক কাজের জন্যই একাধিক ট্রেন বাতিল ও যাত্রাপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিনিয়র ডিসিএম নিশান্ত কুমার জানান, “রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট দিনে কিছু ট্রেন বন্ধ রাখা জরুরি। কাজ এগোতে এটাই প্রয়োজনীয়।”
কিন্তু মহালয়ার দিনেই এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। কারণ, ওই দিন শুধু মহালয়া নয়, একইসঙ্গে দুর্গাপুজোর আগে শেষ রবিবারও। ফলে কেনাকাটা, আত্মীয়দের বাড়ি যাওয়া বা প্রাক-পুজোর যাত্রার চাপ সব মিলিয়ে ভিড় বাড়বে বলেই আশঙ্কা।
খড়্গপুর থেকে টাটানগরগামী এক যাত্রী বলেন, “মহালয়ার দিন সকালে আমাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল। এখন ট্রেন না চলায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।”
একইভাবে মেদিনীপুরের এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “উন্নয়নের কাজ চলুক, কিন্তু সময়টা কি অন্যরকম রাখা যেত না? এভাবে পুজোর আগে মানুষকে সমস্যায় ফেলাটা অন্যায়।”
রেলের উন্নয়নমূলক কাজ জরুরি হলেও মহালয়ার দিন একাধিক ট্রেন বাতিল ও যাত্রাপথ পরিবর্তনে যাত্রীদের ভোগান্তি যে অনিবার্য। শেষ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি সামলাতে খড়্গপুর ডিভিশন কোনও বিকল্প ব্যবস্থা নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ যাত্রী।




