কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২১ সেপ্টেম্বর :
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দুর্নীতি এখন আর শুধু একটি শব্দ নয়, এটি হয়ে উঠেছে জনমনের আস্থা ও হতাশার প্রতীক। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একের পর এক নাম জড়াচ্ছে শাসকদলের শীর্ষস্তর থেকে মন্ত্রীপর্যন্ত। এবার আদালতের কাঠগড়ায় কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। আগামী মঙ্গলবার দুপুর ২টেয় ঠিক হবে—তিনি ফের ইডির হেফাজতে যাবেন, নাকি সাময়িক মুক্তি মিলবে জামিনে।
ইডির দাবি, মন্ত্রীর বোলপুরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা এবং সম্পত্তি–আয়ের গরমিল প্রমাণ করছে তিনি দুর্নীতির বৃহত্তর চক্রের অংশ। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা পক্ষের অভিযোগ—তদন্তের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছে। প্রশ্ন উঠছে, এই মামলার রায় কতটা হবে আইন নির্ভর, আর কতটা হবে রাজনীতি নির্ভর?
অন্যদিকে বিচারকের তীক্ষ্ণ প্রশ্নে স্পষ্ট, আদালত তদন্ত প্রক্রিয়ার অসংগতি নিয়েও চিন্তিত। ১১ মাস পরে কেন চার্জশিট জমা দেওয়া হলো? কেন তদন্তের সময় জমির তথ্য চাইতে গিয়ে প্রতিরক্ষা পক্ষ আয়করের নথি দিল? এসব প্রশ্ন শুধু মামলার নয়, প্রশাসনিক স্বচ্ছতারও প্রতিফলন।
আজ সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দলনির্ভর নয়, বরং ফলাফলের দিকে তাকিয়ে। কারণ, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজার হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের জীবনের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। ফলে আদালতের রায় শুধুই একজন মন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং রাজনীতির প্রতি জনগণের বিশ্বাস কতটা টিকবে, তাও নির্ধারণ করবে।
অপরদিকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে চন্দ্রনাথ সিনহা—শাসকদলের একের পর এক নেতার নাম ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ রাজনীতিকে দুর্বল করছে। প্রশ্ন উঠছে, শাসকদল কি সত্যিই দুর্নীতিকে শাস্তি দিতে প্রস্তুত, নাকি কেবল সময়ক্ষেপণ করে রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখতে চাইছে?
আগামী মঙ্গলবারের রায় হয়তো এক মন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, কিন্তু আসলে তা হবে রাজনীতির সততা, স্বচ্ছতা এবং শাসকের জবাবদিহিতারও পরীক্ষা। আইন যদি রাজনীতিকে ছাড় দেয়, তবে জনগণের আস্থা আরও ক্ষুণ্ণ হবে। আর যদি আইন দুর্নীতির কাছে আপসহীন থাকে, তবে তা হবে গণতন্ত্রের জয়।




