spot_img
25.7 C
Kolkata
Friday, March 6, 2026
spot_img

নবরাত্রিতে শুরু ‘জিএসটি বাঁচত উৎসব’, স্বদেশী কেনাকাটার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২১ সেপ্টেম্বর  :

বরাত্রির শুভক্ষণে দেশবাসীর জন্য নিয়ে আসা হল এক নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে সরলীকৃত পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) কাঠামো, আর তার সঙ্গে মিলিয়ে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘বাঁচত উৎসব’—এই ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তিনি রবিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, “আগামীকাল থেকে দেশ উদযাপন করবে জিএসটি বাঁচত উৎসব। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় বাড়বে, তাঁদের পছন্দের জিনিস কেনা সহজ হবে। এই সংস্কার প্রত্যেক শ্রেণির মানুষকে উপকার দেবে।”

এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য করব্যবস্থাকে সহজ করা। জিএসটি কাউন্সিলের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে থাকবে মাত্র দুটি হার—৫% এবং ১৮%।

  • আগে যে সব পণ্য ১২% হারে কর দিত, তার প্রায় ৯৯% এখন ৫% ক্যাটাগরিতে পড়বে।

  • যেসব দ্রব্যের উপর আগে ২৮% কর ছিল, তার ৯০% কমে হবে ১৮%।

  • তবে বিলাসবহুল দ্রব্য ও তথাকথিত ‘sin goods’-এর উপর ৪০% ক্ষতিপূরণ সেস থাকছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দিলেন, ২০১৪ সালের আগে বহুস্তরীয় করব্যবস্থা ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—দুই পক্ষের জন্যই ছিল এক দুঃস্বপ্ন। পণ্য পরিবহণে বাড়তি খরচ পড়ত, শেষমেশ তার বোঝা বইতে হত সাধারণ গ্রাহককেই।

“এই অবস্থার থেকে দেশকে মুক্ত করা অপরিহার্য ছিল। আজকের সংস্কার সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন,” বলেন মোদি।

প্রধানমন্ত্রী নতুন জিএসটি কাঠামোকে তুলনা করেছেন এক ‘দ্বিগুণ সুবিধা’ হিসেবে। কারণ—

  • এবছরের বাজেটে আয়কর ছাড়ের সীমা বাড়িয়ে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।

  • তার সঙ্গে যুক্ত হল জিএসটির কম হার।

ফলে একদিকে যেমন জিনিসপত্রের দাম সস্তা হবে, তেমনই মানুষের হাতে থাকবে বাড়তি টাকা। মোদির দাবি, এই দুই পদক্ষেপে দেশবাসীর বার্ষিক সঞ্চয় হবে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা।

তিনি জানান, গত ১১ বছরে ২৫ কোটি ভারতীয় দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তৈরি হয়েছে এক নতুন ‘নিও-মিডল ক্লাস’—যাদের আকাঙ্ক্ষা, ভোগক্ষমতা এবং স্বপ্ন আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। জিএসটি সংস্কার সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

“আমরা নাগরিক দেবো ভাবা মন্ত্রে চলছি। এই নতুন জিএসটি তাতে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য

  • সহজ ব্যবসা: জটিল করের জালে আর জড়াতে হবে না ব্যবসায়ীদের।

  • বিনিয়োগ বাড়বে: স্বচ্ছ পরিবেশ বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।

  • ন্যায্য বাজার: সকল রাজ্য সমান অংশীদার হয়ে উঠবে উন্নয়নের পথে।

  • সস্তা পণ্য: মধ্যবিত্ত ও গরিব—দুই শ্রেণির মানুষের খরচ কমবে।

নবরাত্রির পবিত্র লগ্নে শুরু হওয়া এই ‘বাঁচত উৎসব’ শুধু কর সংস্কারের উদযাপন নয়, বরং এক নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। প্রধানমন্ত্রী মোদির কথায়—“এই সংস্কার ভারতের বৃদ্ধি, বিনিয়োগ, সঞ্চয় এবং স্বপ্নপূরণের যাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।”

 

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks