spot_img
28 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

মানহানির নালিশে এফআইআর! পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন হাইকোর্টের !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২১ সেপ্টেম্বর  :

মানহানির অভিযোগ মানেই কি সরাসরি এফআইআর? আদালতের প্রশ্নেই স্পষ্ট—আইনের মৌলিক ব্যাখ্যা নিয়েই বিভ্রান্ত হয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোড়ন তৈরি হয়েছে বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের অন্দরমহলে।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সম্প্রতি এক প্রাক্তন ক্রীড়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত সাংবাদিক দীপঙ্কর গুহ , যিনি একসময় কলকাতার স্পোর্টস সাংবাদিকতা জগতে পরিচিত মুখ ছিলেন। সৌরভের অভিযোগ, তাঁর সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন দীপঙ্কর, যা তাঁর ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা পুলিশ দ্রুত এফআইআর রেজিস্টার করে। এখানেই শুরু বিতর্ক।

মানহানির মামলা সাধারণত দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। সরাসরি এফআইআর দায়ের করার বিধান নেই—এটাই হাইকোর্টের স্পষ্ট বক্তব্য। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বিস্মিত হয়ে তদন্তকারী অফিসারকে প্রশ্ন করেন,
“মানহানির অভিযোগে কীভাবে এফআইআর করলেন? অভিযোগে কি কোথাও এফআইআর চাওয়া হয়েছিল?”

আদালতের এই প্রশ্নে কৌঁসুলি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিচারপতি সন্তুষ্ট হননি।

তদন্তকারী অফিসারকে গত সপ্তাহে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে হয় হাইকোর্টে। এফআইআর করার সিদ্ধান্তে আদালত সরাসরি পুলিশের সমালোচনা করে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, “মানহানির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা যায় না—এটি তো আইন পড়লেই বোঝা যায়।”

ফলে আদালত আপাতত ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ওই এফআইআরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে সাংবাদিকের দাবি অভিযুক্ত সাংবাদিক দীপঙ্কর গুহ হাইকোর্টে আবেদন করেন এফআইআর খারিজের জন্য। তাঁর আইনজীবীদের দাবি –

  • “আমার মক্কেল এমন কিছু বলেননি, যা মানহানির পর্যায়ে পড়ে।”

  • “অযথা তড়িঘড়ি পুলিশ এফআইআর করেছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তাঁরা অতিসক্রিয় হয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপে কাজ করেছেন।”

এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৬ নভেম্বর। তার আগে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ—এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলকেই।

একজন প্রাক্তন ক্রিকেট তারকার অভিযোগ, একজন সাংবাদিকের বক্তব্য, আর সেই সূত্রে পুলিশের অতি তৎপরতা—সব মিলিয়ে এই মামলা এখন রাজ্যের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আদালতের স্থগিতাদেশে আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত সাংবাদিক। তবে নভেম্বরের শুনানি ঠিক করবে—এই মামলা কোন পথে এগোয়।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks