কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২২সেপ্টেম্বর :
আবারও উপস্থিত বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব—দুর্গোৎসব। মহালয়ার ভোর থেকে শুরু হয় কাউন্টডাউন। তারপর একে একে চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী—শহরের আনাচে-কানাচে পুজোর আবহ। আলোর ঝলকানি, শিল্পীর সৃজনশীল হাতের ছোঁয়া, প্রতিমার সৌন্দর্য আর থিমের নতুনত্ব—সব মিলিয়েই প্রতিটি পাড়া সাজিয়ে তোলে তাদের পুজোকে সেরা করার লড়াইয়ে।
এবারও সেই সেরার লড়াইকে মর্যাদা দিতে এগিয়ে এসেছে পাঞ্চজন্য। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তারা আয়োজন করে আসছে ‘পাঞ্চজন্য শারদ শ্রেষ্ঠ সম্মান’। চলতি বছর অর্থাৎ ১৪৩২ সালেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পাঞ্চজন্যের কর্ণধার জয়ন্ত গাঙ্গুলী জানান, “দুর্গোৎসব কেবল আনন্দ আর ভক্তির নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি এবং অসংখ্য শিল্পীর অক্লান্ত পরিশ্রম। তাদের অবদানকে সম্মান জানাতেই এই পুরস্কারের সূচনা।”
এই বছর ইতিমধ্যেই ৪৩২টি পুজো কমিটি নাম নথিভুক্ত করেছে এই প্রতিযোগিতায়। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবে ৮টি শ্রেষ্ঠ ক্লাব। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণ্যমান্য ব্যক্তিত্বরা বেছে নেবেন সেরাদের।
পুরস্কারের অঙ্ক
-
সেরা সেরা পূজা: একটি প্রতিষ্ঠান পাবে ১ লক্ষ টাকার পুরস্কার।
-
পরবর্তী ৫টি প্রতিষ্ঠান: প্রত্যেকে পাবে ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার।
-
উদীয়মান পূজা সংস্থা: এই বছর প্রথমবারের মতো ২টি নতুন ক্লাবকে পুরস্কৃত করা হবে।
শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই প্রতিযোগিতা। এবছর বিচার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নিরপেক্ষ করার জন্য এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন জয়ন্ত গাঙ্গুলী।
এই বছরই প্রথম পাঞ্চজন্য নিজেদের থিম সং তৈরি করেছে, যা এই শারদ সম্মানের বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী দোলন রায়। পাঞ্চজন্যের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “দুর্গোৎসব আমাদের প্রাণের উৎসব। শিল্পীদের সম্মান জানাতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”
সবার চোখ এখন নবমীর সকালে। কারণ সেদিনই ঘোষণা করা হবে পাঞ্চজন্য শারদ শ্রেষ্ঠ সম্মান ১৪৩২-এর ফলাফল। শহরের কোন মণ্ডপ ঘরে উঠবে সেরার সেরা মুকুট—তা জানতে আগ্রহে বুক বাঁধছে শিল্পী, পুজো উদ্যোক্তা আর সর্বোপরি সাধারণ মানুষ।




