কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২২সেপ্টেম্বর :
মহালয়ার সকালেই চারু মার্কেটে জিমে গুলি চলার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রক্তাক্ত হল শহর। সোমবার সকাল পৌনে দশটা নাগাদ গার্ডেনরিচের পশ্চিম বন্দর থানার হুগলি জুটমিলের কাছে উদ্ধার হয় এক যুবকের গুলিবিদ্ধ দেহ। হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। হঠাৎই বিকট শব্দ কানে আসে। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন টায়ার ফেটেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই দেখা যায়, রাস্তায় পড়ে রয়েছে রক্তাক্ত দেহ।
-
মৃতদেহের পাশেই মেলে একটি আগ্নেয়াস্ত্র।
-
আতঙ্কে অনেকেই বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন।
-
পুলিশে খবর দিলে তড়িঘড়ি মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
যদিও এখনও পর্যন্ত ওই যুবকের পরিচয় জানা যায়নি।
এক স্থানীয় দোকানদার বলেন, “সকালে দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ গুলির মতো আওয়াজ পাই। বাইরে এসে দেখি, এক যুবক রক্তে ভেসে মাটিতে পড়ে আছে। আমরা তো ভয়েই কাঁপছিলাম।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “এলাকায় অনেক পরিবার, ছোট ছোট বাচ্চারা থাকে। পুজোর সময় এভাবে গুলি চলতে থাকলে আমরা কোথায় নিরাপদ?”
অপরদিকে পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর মধ্যে গণ্ডগোল থেকেই এই গুলি চালানোর ঘটনা।
-
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
-
আশেপাশে টহল বাড়ানো হয়েছে।
-
মৃত যুবকের পরিচয় জানা গেলে তদন্তে নতুন দিশা মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
এক আধিকারিক জানান, “দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। খুব শীঘ্রই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।”
চারু মার্কেট ও গার্ডেনরিচে টানা দু’দিন শুটআউটের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।
-
অনেকের প্রশ্ন, পুজোর মুখে শহরে কোথায় নিরাপত্তা?
-
সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইভের মতো প্রচার থাকলেও কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
-
সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কে—জিমে, রাস্তায়, কিংবা বাজারে তাঁদের নিরাপত্তা কোথায়?
একইসাথে এক কলেজ পড়ুয়া বলেন, “টানা দু’দিন গুলি চালানোর ঘটনা শুনে মনে হচ্ছে যেন গ্যাংস্টারের শহর। পুলিশ কি আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে?”
কলকাতা সবসময়ই উৎসবের শহর। দুর্গাপুজোর আবহে এমন ঘটনাগুলি কেবল আতঙ্কই বাড়াচ্ছে। টানা দু’দিনের শুটআউট শহরের আইন-শৃঙ্খলার উপর প্রশ্ন তুলছে। পুলিশের তরফে দাবি, তদন্তে গতি আনা হচ্ছে এবং দুষ্কৃতীদের শিগগিরই ধরা হবে। তবে আপাতত নাগরিকদের মনে রয়ে গেছে আতঙ্ক ও অস্বস্তি।




