কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২২সেপ্টেম্বর :
বিহারের রাজনীতিতে ফের নতুন নাটকীয় মোড়। নির্বাচনী কৌশলবিদ থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোর (পিকে) নবরাত্রির সময়েই তাঁর দল জন সুরজ পার্টি (JSP)-র ২৪৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে চলেছেন। এই ঘোষণার ফলে কার্যত NDA ও মহাগটবন্ধনের (I.N.D.I.A bloc) অঙ্ক ঘেঁটে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
বিহারের দুই বড় জোটে—NDA এবং মহাগটবন্ধন—এই মুহূর্তে আসন ভাগাভাগি নিয়ে প্রবল দ্বন্দ্ব। এমন সময়ে যদি পিকে পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন, তবে দুই জোটকেই বাধ্য হয়ে জন সুরজের প্রার্থীদের শক্তি-সামর্থ্য মাথায় রেখে নতুন কৌশল বানাতে হবে। এতে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হবে অভ্যন্তরীণ চাপা অসন্তোষ, দ্বন্দ্ব বাড়বে সমীকরণের।
প্রশান্ত কিশোরের পদক্ষেপ যে কেবল প্রতীকী নয়, তা নিয়ে প্রায় নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল। ‘আমরা নবরাত্রির সময়ে নেতাদের বৈঠক করে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করব’, সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন পিকে। তাঁর বিশ্বাস, অন্য কোনও দল নয়, প্রথমেই প্রার্থীদের নাম জানিয়ে “অ্যাজেন্ডা সেট” করতে পারবে JSP।
‘জন-সুরজ যাত্রা’র সময় থেকেই পিকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করেছেন বিহারের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে। তাঁর অভিযোগ—পরিবারতন্ত্র ও স্বজনপোষণে রাজনীতি পঙ্গু। যাত্রার সময় বহু শিক্ষিত ও যোগ্য নতুন মুখকে সামনে এনেছিলেন তিনি। তাই অনুমান করা হচ্ছে, তাঁদের অনেককেই JSP টিকিট দেবে। এই পদক্ষেপে যুবক, শিক্ষিত এবং নির্দল মানসিকতার ভোটাররা JSP-র দিকে ঝুঁকতে পারেন।
বিহারের ভোটব্যাঙ্ক বরাবরই জাত-পাতকেন্দ্রিক। পিকে যদি কোনও নির্দিষ্ট জাতের প্রভাবশালী প্রার্থী দেন, তবে মহাগটবন্ধন বা NDA—দুই পক্ষেরই ভোট কাটতে পারেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে JSP প্রার্থীরা “কিং-মেকার” হয়ে উঠতে পারেন বলে আশঙ্কা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই আসল কৌশল—“ভোটারদের বিভাজন”।
বড় প্রশ্ন সামনে
নবরাত্রিতে JSP-র প্রার্থী তালিকা প্রকাশ মানে কার্যত যুদ্ধের শিঙ্গা বাজানো। এতে পিকে কি বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন, নাকি শেষ পর্যন্ত বড় দুই জোটই তার ফায়দা তুলবে?
বিহারের রাজনৈতিক আঙিনায় তাই এখন প্রশ্ন একটাই—নবরাত্রি কি কেবল ধর্মীয় উৎসব, নাকি ২০২৫-এর নির্বাচনী লড়াইয়ের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠবে?




