spot_img
29.6 C
Kolkata
Monday, October 5, 2026
spot_img

অশ্রুভেজা বিদায়, অসম হারাল প্রিয় রকস্টার জুবিন গার্গকে !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিউজ ডেস্ক :কলকাতা  ,২৩ সেপ্টেম্বর  :


অসমের আকাশে আজ কেবল একটাই সুর—‘মায়াবিনী’। রাজ্যের প্রিয় রকস্টার জুবিন গার্গকে শেষ বিদায় জানাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ যেন একসঙ্গে গেয়ে উঠলেন তাঁর প্রিয়তম গান। তিনি নিজেই একসময় বলেছিলেন, “আমার মৃত্যুর দিন যেন অসম এই গান গায়।” মঙ্গলবার, রাষ্ট্রীয় সম্মান আর ২১-গান স্যালুটের মাঝে সেই কথাই বাস্তব হয়ে উঠল।

সিঙ্গাপুরে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হওয়ার পর মঙ্গলবার গৌহাটির কামারকুচিতে সম্পন্ন হয় তাঁর অন্ত্যেষ্টি। আগে তাঁর দেহ রাখা হয় অরুণ ভোগেশ্বর বরুয়া ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল, বিধানসভা স্পিকার বিজয় দাইমারির মতো বিশিষ্টরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পী—সবাই চোখের জলে ভেসেছেন।

অন্ত্যেষ্টি স্থলের দিকে এগোতেই দেখা গেল অভূতপূর্ব দৃশ্য। ভোর থেকেই রাস্তায় নামতে শুরু করেন ভক্তরা। হাতে ফুল, ব্যানার, ব্যান্ড পার্টির সুর—কিন্তু সেই সুরের ভেতর লুকিয়ে ছিল বেদনা। শেষকৃত্যের সময়ে ভক্তরা একসঙ্গে গাইলেন “মায়াবিনী ও…”। শোককে ছাপিয়ে উঠল অসমবাসীর আবেগ ও ভালোবাসা।

শবদেহের পাশে মেখেলা-চাদর পরিহিতা স্ত্রী গারিমা শইকিয়া গার্গ বারবার হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর কান্না স্তব্ধ করে দিয়েছে আশপাশের হাজারো কণ্ঠকে। জুবিনের বোন পাল্মে বorthakur এবং শিষ্য সুরকার রাহুল গৌতম অগ্নিসংস্কার সম্পন্ন করেন।

১৯৭২ সালে মেঘালয়ের জন্ম হলেও কৈশোরেই জুবিন পা রাখেন অসমের সঙ্গীত জগতে। নব্বইয়ের দশকে প্রথম গানেই ঝড় তোলেন। হিন্দি, বাংলা, অসমিয়া—মোট ৪০টিরও বেশি ভাষায় গেয়েছেন তিনি। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া বলিউড ছবির গান “ইয়া আলি” তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল জাতীয় খ্যাতির শীর্ষে। তবে অসমবাসীর কাছে তিনি শুধু গায়ক নন, এক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নাম।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বললেন, “জুবিন শুধু সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন না, তিনি আমাদের আত্মার সুর ছিলেন।” কিরেন রিজিজুর মন্তব্য, “ভারত হারাল এক বহুমুখী প্রতিভা, অসম হারাল তার প্রাণস্পন্দন।”

অসমের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এমন আবেগঘন দৃশ্য বিরল। শিল্পীদের দাবি, জুবিনের মতো গায়ক শুধু প্রজন্ম নয়, গোটা সমাজকে এক সূত্রে বেঁধেছিলেন। তাঁর মৃত্যু যেন অসমবাসীর ব্যক্তিগত ক্ষতি। ভক্তরা বলছেন, “জুবিন নেই, কিন্তু তাঁর সুর তো থেকে যাবে। প্রতিটি উৎসব, প্রতিটি ভোরে তিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন।”

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks