কলকাতা টাইমস নিউজ :বিশেষ সংবাদদাতা :নিউ ইয়র্ক,২৩ সেপ্টেম্বর :
বাংলাদেশের রাজনীতির উত্তাপ এবার উড়ে এল আটলান্টিক পেরিয়ে। ঢাকার মতোই প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঘনবসতিপূর্ণ নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় রবিবার রাতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে। আর সেই ঘটনাই ঘিরে আলোড়ন ছড়াল মুহাম্মদ ইউনূসের মার্কিন সফরের প্রাক্কালে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় সময় রাত আটটা নাগাদ জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় হঠাৎ করেই শুরু হয় স্লোগান পাল্টা-স্লোগান। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পতাকা নিয়ে হাজির হয় প্রবাসী আওয়ামী সমর্থকেরা, অন্যদিকে হাজির হন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অনুগামীরা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছে যায় দুই শিবির। “পরিস্থিতি যেন এক মুহূর্তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে,” জানালেন এক স্থানীয় দোকানদার।
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয় নিউ ইয়র্ক পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই পক্ষের সমর্থকরা ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়ছিলেন, তখনই পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে মৃদু বলপ্রয়োগ করে ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরে ধাপে ধাপে খালি করা হয় ডাইভার্সিটি প্লাজা চত্বর। শেষ পর্যন্ত রবিবার গভীর রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অপরদিকে উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার বিকেলে নিউ ইয়র্কে পৌঁছন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে। তাই সফরের আগে এই অশান্তি স্বাভাবিক ভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের জেরে ক্ষমতা হারায় আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্তফা দিয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। এর পরেই ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই নিউ ইয়র্কে আওয়াজ তুলেছিলেন আওয়ামী সমর্থকেরা। অন্যদিকে, বিএনপি সমর্থকরা পাল্টা অবস্থান নিতে রাস্তায় নামেন। ফলশ্রুতিতে বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এলাকার সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, এ ধরনের সংঘাত তাঁদের সামাজিক সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলছে। জ্যাকসন হাইটসেরই এক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী জানান, “রাজনীতি তো দেশে হয়। এখানে তো আমরা সবাই রোজকার জীবিকা নিয়ে লড়াই করি। কিন্তু এই সংঘাত আমাদের সমাজকে বিভক্ত করছে।”
ফলে স্পষ্ট, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিধ্বনি এখন প্রবাসী সমাজেও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আর সেই প্রেক্ষাপটে ইউনূসের নিউ ইয়র্ক সফর আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল।




