spot_img
21 C
Kolkata
Tuesday, January 13, 2026
spot_img

বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে লুকিয়ে কাবুল থেকে দিল্লি – ১৩ বছরের আফগান কিশোর, কৌতূহলেই ঘটাল অবিশ্বাস্য কাণ্ড !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৩ সেপ্টেম্বর  :


কৌতূহল কখনও কখনও প্রাণঘাতীও হতে পারত—কিন্তু অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেল এক কিশোর। মাত্র ১৩ বছরের এক আফগান কিশোর কাবুল বিমানবন্দরে চুপিসারে ঢুকে পড়ে যাত্রীবাহী বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারের কম্পার্টমেন্টে আশ্রয় নেয়। সেইভাবেই সে ২ ঘণ্টার যাত্রা শেষে রবিবার পৌঁছে যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

সূত্রের খবর, রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ KAM এয়ারলাইন্সের RQ-4401 নম্বরের ফ্লাইট দিল্লিতে অবতরণ করে। বিমান নামার পর কর্তৃপক্ষ লক্ষ্য করেন, এক কিশোর বিমানটির চারপাশে ঘুরছে। দ্রুত তাকে আটক করে CISF–এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তদন্তে জানা যায়—

  • ওই কিশোর আফগানিস্তানের কুন্দুজ শহরের বাসিন্দা।

  • কাবুল বিমানবন্দরে গোপনে ঢুকে বিমানের পিছনের রিয়ার সেন্ট্রাল ল্যান্ডিং গিয়ার কম্পার্টমেন্টে উঠে পড়েছিল।

  • জেরায় সে জানায়, নিছক কৌতূহল থেকেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

অভিজ্ঞ বিমানকর্মীরা জানাচ্ছেন, ল্যান্ডিং গিয়ারের জায়গায় চাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা এতটাই কম থাকে যে সেখানে টানা কিছুক্ষণ থাকা প্রায় অসম্ভব। তাপমাত্রাও আকাশে পৌঁছলে শূন্য ডিগ্রির অনেক নীচে নেমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ১৩ বছরের এক শিশু যে দুই ঘণ্টার বিমানযাত্রা বেঁচে ফিরেছে, তা নিছক অলৌকিক বলেই মনে করছেন অনেকে।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপে –

  • কিশোরকে বিমান সংস্থার কর্মীরা CISF–এর হাতে তুলে দেন।

  • টার্মিনাল ৩–এ নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।

  • বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ার কম্পার্টমেন্টে পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি লাল রঙের ছোট স্পিকার পাওয়া যায়, যা সম্ভবত ওই কিশোরেরই ছিল।

  • সুরক্ষা সংক্রান্ত আশঙ্কা দূর করতে বিমানটিতে বিস্তৃত অ্যান্টি-সাবোটাজ চেক চালানো হয়।

পরে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ একই বিমানে তাকে ফের আফগানিস্তানে পাঠানো হয়।

এই ঘটনা সামনে আসতেই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—

  • কীভাবে একটি শিশু কাবুল বিমানবন্দরের এত কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে উঠতে পারল?

  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি এতটাই ফাঁকফোকরযুক্ত হয়, তবে তা কি বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করছে?

একজন বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের কথায়, “একটি শিশু হয়তো কৌতূহলবশত এই কাজ করেছে। কিন্তু একই ফাঁকফোকর ব্যবহার করে কেউ যদি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে এমন কিছু করে, তবে তা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।”

১৩ বছরের এক কিশোরের কৌতূহল অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিলেও তা আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার ফাঁকফোকরও স্পষ্ট করে দিল। প্রাণে বেঁচে ফেরা সেই কিশোর আপাতত দেশে ফিরে গেলেও, এই ঘটনাই ফের প্রশ্ন তুলছে—আকাশপথে আমরা কতটা নিরাপদ ?

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks