কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৩ সেপ্টেম্বর :
এক রাতের টানা বৃষ্টিতে কার্যত ডুবল শহর। ৩৯ বছরে সেপ্টেম্বরে এ প্রথম রেকর্ড বৃষ্টিপাতের সাক্ষী থাকল কলকাতা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য বলছে, ২২ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ২৫১.৪ মিলিমিটার। এর আগে ১৯৮৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৬৯.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় চার দশক পর সেই রেকর্ডের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াল এ বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের বর্ষণ।
তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায়, কলকাতায় সেপ্টেম্বরে এক দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছিল ১৯৭৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর — ৩৬৯.৬ মিলিমিটার। তার পর ১৯৮৬ সালে ২৬৯.৫ মিলিমিটার। এ বার ২০২৫ সালের ২২-২৩ সেপ্টেম্বরের বর্ষণ সেই তালিকায় তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিল। শুধু তাই নয়, সব মাস মিলিয়ে কলকাতার ২৪ ঘণ্টার সর্বাধিক বৃষ্টির তালিকায়ও ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে এই দিনটি। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম এত বৃষ্টি দেখল শহর।
রাতভর নামা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে দক্ষিণ কলকাতা এবং লাগোয়া শহরতলি। রাস্তায় হাঁটু-সমান থেকে বুকে-সমান জল। কোথাও গাড়ি-বাইক অর্ধেক ডুবে রয়েছে, কোথাও আবার বাড়ি ঘরে ঢুকে পড়েছে জল। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত জনের। নিরাপত্তার জন্য বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে।
প্রচণ্ড জলাবদ্ধতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ। অফিস যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে। কোথাও বাস-অটো দাঁড়িয়ে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কোথাও মেট্রো স্টেশন চত্বরে জল জমে যাত্রীদের নাজেহাল অবস্থা।
কলকাতার মেয়র ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “লকগেট খুলে জল নামানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু নদীর জোয়ারের কারণে জল ফেরত চলে আসছে। অন্তত আজকের দিনটা মানুষকে বাড়ি থেকে বেরোতে হলে খুব সতর্ক থাকতে হবে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।”
অন্যদিকে, সোনারপুরে ২৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া দপ্তর। খাল উপচে পড়ায় জল ঢুকে গিয়েছে বহু বাড়ি ও দোকানে। পাম্প চালানো হলেও দুপুর থেকে জোয়ারের কারণে লকগেট বন্ধ রাখতে হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা লাগবে।
শহরের নীচু এলাকায় বাড়ির ভেতর পর্যন্ত জল ঢুকে যাওয়ায় রাতভর জেগে কাটাতে হয়েছে বহু পরিবারকে। গড়িয়াহাটের বাসিন্দা এক গৃহবধূ বলেন, “রাত তিনটের সময় ঘরে জল ঢুকতে শুরু করে। ফ্রিজ, খাট, সব কিছু ভিজে নষ্ট হয়ে গেল। কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।”
অফিসযাত্রীদের একাংশ আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও যানবাহন পাননি। যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের ভাড়া গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত।
অন্যদিকে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। আকাশ মেঘলা থাকবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করবে।




