কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৩ সেপ্টেম্বর :
শারদোৎসবের কাউন্টডাউন চলছে। আজ দ্বিতীয়ার সকাল। আর চার দিনের মধ্যে মণ্ডপে ঢাক-ঢোলের শব্দ, ধূপের গন্ধ, ভক্তদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠবে শহর। কিন্তু তার আগেই রাতভর বৃষ্টিতে কার্যত স্তব্ধ কলকাতা। কোথাও হাঁটুজল তো কোথাও কোমরজল, কোথাও আবার ভেঙে পড়েছে প্যান্ডেল। মণ্ডপে জল ঢুকে প্রতিমা পর্যন্ত ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা উদ্যোক্তারা।
জল-আক্রান্ত বড় পুজোগুলি :
-
হাতিবাগান নবীন পল্লী: উদ্যোক্তা শৌভিক ভড় জানালেন, “প্যান্ডেল ভেঙে গিয়েছে। ক্ষতি এতটাই যে আর পূরণ করা যাবে না। প্রতিমা মঞ্চ উঁচু করে তৈরি ছিল বলে কোনওমতে বেঁচে গিয়েছে। না হলে ঠাকুরও নষ্ট হয়ে যেত।”
-
সিংহী পার্ক সর্বজনীন: এ বার ৮৪তম বর্ষ। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের কথা ছিল মঙ্গলবার। কিন্তু রাতভর বৃষ্টিতে প্যান্ডেলের নীচের অংশ নষ্ট। শিল্পী সুদীপ্ত মাইতি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নতুন করে কাজ শুরু করেছেন।
-
উল্টোডাঙা সংগ্রামী: প্যান্ডেলের ভেতর হাঁটুসমান জল। পাম্পিং করেও জল নামছে না।
-
সল্টলেক ইসি ব্লক: থিমই জল। আর এখন গোটা এলাকা কার্যত ভাসছে জলে। আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্যোক্তারা চিন্তিত।
-
যাদবপুর অ্যাথলেটিক ক্লাব: সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র। প্যান্ডেলের ভেতরে জল ঢুকে প্রতিমা পর্যন্ত ভিজে গিয়েছে। বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে দমকল।
-
পূর্বাচল উদয়ন সংঘ: রং-তুলির কাজ ভেসে গেছে বৃষ্টির জলে। শিল্পী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বললেন, “এবারে কাজ শেষ করাই অনিশ্চিত।”
বড়িশা ক্লাব, ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক পার্ক, পল্লীমঙ্গল— বেশ কিছু বড় পুজো এখনও পর্যন্ত বড় ক্ষতি এড়াতে পেরেছে। নূতন দল, দক্ষিণপাড়া যুব পরিষদ, বেলগাছিয়া সাধারণ দুর্গোৎসব— আগেভাগেই উঁচু প্ল্যাটফর্ম ও প্লাইয়ের উপর মণ্ডপ করায় অনেকটাই রক্ষা পেয়েছে।
বেহালা দেবদারু ফটকের অতনু ঘোষ জানালেন, “মাঠে জল জমেনি। প্যান্ডেলের সামনে সামান্য জল ছিল। এখন ফের কাজ শুরু হয়েছে।”
তবে বেহালা আদর্শপল্লীর উদ্যোক্তা সায়ন্তন ঘোষ উদ্বিগ্ন— “ফাইনাল টাচ বাকি ছিল। তার মধ্যেই বৃষ্টি সব ভেস্তে দিল।”
একদিকে সময়ের চাপ, অন্যদিকে বৃষ্টির দুর্যোগ। অনেক উদ্যোক্তারই দাবি, চার দিনের মধ্যে মণ্ডপের ক্ষতি মেরামত করা কার্যত অসম্ভব। হাতিবাগান সর্বজনীনের শাশ্বত বসু বললেন, “শুধু আমাদের নয়, আশপাশের সব বড় পুজোতেই জল জমেছে। এখন কী হবে, ভেবে পাচ্ছি না।”
কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত শহরে বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৩৩২ মিলিমিটার। ফলে বেলেঘাটা, কলেজ স্ট্রিট, সিআর অ্যাভিনিউ, গার্ডেনরিচ-সহ একাধিক এলাকা জলমগ্ন।
পুরসভার মেয়র পরিষদ (নিকাশি) তারক সিংহ বললেন, “নিকাশি বিভাগ জল নামানোর চেষ্টা করছে। তবে আবার বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। অন্তত ১০-১২ ঘণ্টা লাগবে স্বাভাবিক হতে।”
কলকাতার দুর্গাপুজো এখন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বিশ্বমানের সংস্কৃতির প্রতীক। UNESCO-র হেরিটেজ ট্যাগপ্রাপ্ত এই উৎসবের মাঝেই এ হেন বিপর্যয় উদ্যোক্তাদের কাছে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানসিক আঘাতও। অনেকেই বলছেন, “মা আসছেন, আর শহর এভাবে বানভাসি— এমন দৃশ্য আগে দেখিনি।”




