কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৬ সেপ্টেম্বর :
দুর্গোৎসব মানেই শহর জুড়ে আলো, রঙ, মানুষের ভিড়। সেই ভিড় সামলাতে প্রশাসনের তরফে এ বছরও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে সকাল আটটা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণ এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর পরিষেবা চালু থাকবে। মেট্রোর পাশাপাশি বেসরকারি বাস ও লোকাল ট্রেনও ওই দু’দিন চলবে বাড়তি সময়ে। ফলে পুজোর রাতে প্যান্ডেল হপিং করতে সুবিধা হবে সাধারণ মানুষের।
কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। এক রাতের প্রবল বর্ষণে ইতিমধ্যেই ভেসে গিয়েছে কলকাতার বহু এলাকা। রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল হয়েছে ব্যাহত। পুজোর মুখে সেই ভোগান্তি শহরবাসীর মন খারাপ বাড়িয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দুর্ভাগ্যবশত খুব শীঘ্রই বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই নেই। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নতুন ঘূর্ণাবর্ত। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে। সপ্তমী পর্যন্ত রয়েছে ভারী বর্ষণের সতর্কতা।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত বর্তমানে সক্রিয়। সমুদ্রতল থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায় সেটি বিস্তৃত। এর পাশাপাশি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে এর প্রভাবে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। সেটি ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর স্থলভাগে প্রবেশ করবে ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূল দিয়ে। তখন দক্ষিণবঙ্গে তার প্রভাব পড়বে জোরদার।
আগামী সাত দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। ২৭ সেপ্টেম্বর ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। কলকাতাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। যদিও ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর বৃষ্টি সামান্য কমার ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস।
উত্তরবঙ্গেও পরিস্থিতি তেমন আশাপ্রদ নয়। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে শনিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো উত্তরবঙ্গের দক্ষিণের জেলাগুলিতেও সোমবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে।
অন্যদিকে, সমুদ্র উত্তাল থাকবে বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত। উত্তর ও মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার হতে পারে। সেই কারণে মৎস্যজীবীদের রবিবার পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জারি হয়েছে লাল সতর্কতা।
একদিকে মেট্রো, বাস ও লোকাল ট্রেনের বাড়তি পরিষেবা পুজো উদ্যাপনে সুবিধা এনে দিচ্ছে শহরবাসীর জন্য। অন্যদিকে, আবহাওয়ার এমন রূঢ় চেহারা পুজোর আনন্দে ভাঁটা ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
প্যান্ডেল হপিং-এর পরিকল্পনা করা পরিবারের কণ্ঠে ইতিমধ্যেই শোনা যাচ্ছে দুশ্চিন্তার সুর— “পরিষেবা যতই থাক, যদি ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বর্ষণ হয়, তবে বাইরে বেরোনো কঠিন হবে।”
প্রশাসন থেকে অবশ্য আশ্বাস, যাত্রীসেবার পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। জরুরি পরিষেবা সচল রাখতেই সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




