কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৬ সেপ্টেম্বর :
দুর্নীতির কালো ছায়া ঘিরে রেখেছিল তাঁর রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনকে। দীর্ঘ কারাবাসের পর অবশেষে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এই নির্দেশ দেন। তবে আদালতের একাধিক শর্তে বাঁধা রইলেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
আদালতের শর্ত কী কী?
জামিন পেলেও পার্থবাবুকে মেনে চলতে হবে কড়া নিয়মাবলি—
-
সাক্ষীদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখা চলবে না— না দেখা, না ফোনে কথা।
-
তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। মাসে অন্তত একবার হাজিরা দিতে হবে তদন্তকারী অফিসারদের কাছে।
-
পাবলিক অফিসে কাজ নয়— বিধায়ক হলেও আপাতত সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
-
ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা— নিম্ন আদালতের এলাকার বাইরে যাওয়া চলবে না।
-
পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে আদালতে।
-
অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হওয়া চলবে না— আদালতের স্পষ্ট বার্তা।
-
নিজস্ব মোবাইল নম্বর তদন্তকারী অফিসারকে জানাতে হবে।
অন্যদিকে আইনজীবীদের মতে, খাতায়-কলমে জামিন মিললেও বাস্তবে জেল থেকে বেরোতে পারবেন কিনা তা এখনও অনিশ্চিত। কারণ, নিয়োগ দুর্নীতির অন্য একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে— এক মাসের মধ্যে চার্জ গঠন, দুই মাসে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে হবে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকায় পার্থবাবুর মুক্তি আটকে যেতে পারে। অর্থাৎ, পুজোর মুখে জামিনের আলো দেখা গেলেও বাড়ি ফেরা এখনও প্রশ্নচিহ্নের মুখে।
২০২২ সালের ২২ জুলাই দক্ষিণ কলকাতার নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। সেইসঙ্গে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটেও হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
-
টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।
-
বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।
বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হওয়ার পর গ্রেফতার করা হয় পার্থ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতাকে। অর্পিতা ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। এবার পুজোর মুখে জামিনের স্বাদ পেলেন পার্থও।
শহরে খবর ছড়াতেই নানা প্রতিক্রিয়া। কারও বক্তব্য— “এত টাকার খেলায় যুক্ত মানুষকে জামিন দেওয়া ঠিক হয়নি।” আবার অনেকে বলছেন— “আইন তার নিজের গতিতে চলুক, শেষ সত্য প্রকাশ পাক।”
পুজোর ক’দিন আগে এই জামিনের খবর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শাসক দল থেকে বিরোধী— সকলে নজর রাখছে পরবর্তী পদক্ষেপে। সাধারণ মানুষও কৌতূহলী, “এবার কি সত্যিই বাড়ি ফিরবেন পার্থ?”




