spot_img
25 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

হিংসা থামলেও থমথমে লাদাখ, চলছে ধরপাকড় !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৬ সেপ্টেম্বর  :

উপরাজ্যপালের দফায় দফায় বৈঠক, ‘বিশেষ দূত ’ পাঠাল কেন্দ্র !

লাদাখের লেহ – চারদিন আগের হিংসার আঁচ এখনও পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। শহরের রাস্তাঘাটে কার্ফু জারি রয়েছে, নিরাপত্তা বলয় আঁটসাঁট। কোথাও জমায়েত নেই, দোকানপাট অধিকাংশই বন্ধ, রাস্তায় টহল দিচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী। স্থানীয়দের কথায়, “গায়ে রোদ পড়ছে, কিন্তু শহরটা যেন অন্ধকারে ঢেকে গেছে।”

লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে বুধবার লেহ শহরে হাজারো মানুষ জমায়েত হয়। দাবি ওঠে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় লাদাখকে অন্তর্ভুক্ত করার। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ক্রমে হঠাৎই হিংসায় রূপ নেয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা বিজেপির পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়, পুলিশ ভ্যান ভাঙচুর করে তাতে আগুন লাগানো হয়। পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে, লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে মৃত্যু হয় অন্তত চার জনের। আহত প্রায় ৮০ জন, যাদের মধ্যে ৪০ জন পুলিশকর্মীও রয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেদিনই কার্ফু জারি করেন উপরাজ্যপাল কবীন্দ্র গুপ্ত। এখনও সেই কার্ফু বলবৎ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, শুক্রবার বিকেলের পর হয়তো কার্ফু শিথিল হতে পারে। তবে আপাতত গোটা শহর জুড়ে ‘সেকশন ১৪৪’ কার্যকর। নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় রাস্তায় মোতায়েন।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে লাদাখের উপরাজ্যপাল গত দু’দিন ধরে টানা বৈঠক করছেন প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে। এদিকে কেন্দ্রও নড়েচড়ে বসেছে। অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ‘বিশেষ দূত’ পাঠিয়েছে লাদাখে। শুক্রবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল উপত্যকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “দিনের প্রথমার্ধে দুর্ভাগ্যজনক কিছু ঘটনা ঘটলেও বিকেল থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা সকলকে আবেদন করছি— কেউ যেন পুরনো বা উস্কানিমূলক ভিডিও শেয়ার না করেন।”

লেহ শহরের বাতাসে আতঙ্ক মিশে থাকলেও পুলিশ সক্রিয়। বুধবারের হিংসার ঘটনায় যারা যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ, তাদের চিহ্নিত করে ধরা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অন্তত ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজনের খোঁজে চলছে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি। স্থানীয়রা বলছেন, “রাতে দরজায় টোকা পড়ছে, পুলিশ ঢুকে যাচ্ছিল ঘরে ঘরে। পুরো শহরটাই যেন ঘেরাও।”

আগামী ৬ অক্টোবর লাদাখের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছে কেন্দ্র। তার আগেই এই বিক্ষোভ কেন্দ্রের ওপর চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, “এটি শুধু জমি বা রাজ্যের মর্যাদার প্রশ্ন নয়, লাদাখের জনতার অস্তিত্ব রক্ষার দাবি। কেন্দ্রের কাছে এখন বড় পরীক্ষা— কীভাবে আস্থা ফেরানো যায়।”

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks