কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৬ সেপ্টেম্বর :
ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের অবসান হতে চলেছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে অবসর নেবে মিগ–২১ (MiG-21)— যে যুদ্ধবিমানকে বলা হত “IAF-এর মেরুদণ্ড”। প্রায় ৬০ বছরের অবিচ্ছিন্ন সেবা শেষে ভারতীয় বায়ুসেনার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে চলেছে।
১৯৬৩ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয় মিগ–২১। প্রথম স্কোয়াড্রন, চণ্ডীগড়ের ২৮ স্কোয়াড্রন, পেয়েছিল ‘ফার্স্ট সুপারসনিকস’ নাম। কারণ এটাই ছিল ভারতের প্রথম অতিধ্বনি যুদ্ধবিমান। তারপর থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে, প্রশিক্ষণে, কিংবা সীমান্তে টহলে— সর্বত্রই ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই বিমান।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আকাশযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় মিগ–২১। শুধু তাই নয়, কার্গিল যুদ্ধেও এর উপস্থিতি ভারতীয় সেনার শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর গতি, ক্ষিপ্রতা এবং টেকনিক্যাল দক্ষতা একাধিকবার ভারতকে জয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছে।
বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কিংবদন্তিকে কুর্নিশ জানিয়ে লিখেছে—
“এটি সেই যুদ্ধবিমান, যে আকাশে উড়ে বহন করেছে এক জাতির গর্ব।”
একটি ভিডিও পোস্ট করে মিগ–২১-এর বীরত্বগাথা তুলে ধরা হয়েছে। অবসরের দিনে বিশেষ ফ্লাইপাস্টের মাধ্যমে শেষ সম্মান জানানো হবে এই কিংবদন্তিকে।
মিগ–২১ অবসরের পর তার জায়গা নিতে চলেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (LCA) মার্ক 1A। এটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উৎপাদনের এক বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আকাশে ভারতীয় শক্তির নতুন প্রতীক হয়ে উঠবে তেজস।
প্রায় ৬ দশক ধরে ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশযুদ্ধে জয়-পরাজয়, গর্ব-গৌরব সবকিছুর সাক্ষী মিগ–২১। একাধিক পাইলটের কাছে এটি ছিল প্রথম ভরসার যুদ্ধবিমান। কারও কারও কাছে আবার এটি তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অবসরের প্রাক্কালে তাই অনেক প্রাক্তন পাইলট আবেগপ্রবণ হয়ে বলছেন— “মিগ–২১ শুধু বিমান নয়, এটি আমাদের হৃদয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গর্বের প্রতীক।”




