কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৮ সেপ্টেম্বর :
ষষ্ঠীর দিন থেকেই পুজো-প্যান্ডেল ভিজে উঠল বৃষ্টির ফোঁটায়। শহরের আকাশ ভরে উঠেছে কালো মেঘে, একদিকে ঠাকুর দেখার উন্মাদনা, অন্যদিকে আবহাওয়ার দফতরের সতর্কতা—পুজোর ক’দিন একাধিক দফায় ঝড়বৃষ্টিতে ভিজতে চলেছে গোটা রাজ্য।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সকালে ওড়িশার উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করা নিম্নচাপ ধীরে ধীরে পশ্চিমে সরে যাবে। কিন্তু অষ্টমীর দিন উত্তর আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবমীর আগেই তা নিম্নচাপে পরিণত হবে। এর জেরে দুর্গাপুজোয় অন্তত দু’দিন ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা প্রবল।
কোন দিনে কোথায় কতটা বৃষ্টি ?
-
পঞ্চমী: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি।
-
ষষ্ঠী: কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আট জেলায় (দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম) বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া।
-
সপ্তমী: বৃষ্টি কিছুটা কমবে। দুই ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরে হালকা–মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা।
-
অষ্টমী: ঝড়বৃষ্টি হতে পারে নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমেও।
-
নবমী–দশমী: ফের দুর্যোগের আশঙ্কা। দশমীতে ভারী বৃষ্টি কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও নদিয়ায়।
-
একাদশী: উপরে উল্লিখিত জেলাগুলির সঙ্গে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গও বাদ যাবে না। পঞ্চমীতে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দশমী ও একাদশীতে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
পঞ্চমী থেকেই শহরে শুরু হয়েছে ঠাকুর দেখা। রাস্তায়, মেট্রোয়, বাসে—সবখানেই উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু হাওয়া অফিসের বার্তা স্পষ্ট—ছাতা বা রেনকোট ছাড়া বেরোলে বিপাকে পড়তে হবে।
লেকটাউনের এক প্যান্ডেলপ্রেমী তরুণীর কথায়, “বৃষ্টিতে ঠাকুর দেখা কষ্টকর, কিন্তু আবার ভিজে ভিজে ঠাকুর দেখার আলাদাই মজা। ছোটবেলার পুজো গুলোর কথা মনে পড়ে যায়।”
অন্যদিকে, গড়িয়াহাটের ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা, “বৃষ্টি হলে বিক্রি কমে যায়। প্যান্ডেলে ভিড় কম হলে ব্যবসায় টান পড়ে।”
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জেরে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও একাধিক দফায় ভারী বৃষ্টিতে ভিজবে। তাই মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংক্ষেপে, এ বছর দুর্গাপুজোয় মেতে উঠবে শহর, কিন্তু সঙ্গে থাকবে ভিজে ভিজে উৎসবের রোমাঞ্চ। মণ্ডপে ঢাক–কাঁসর যেমন বাজবে, তেমনই ছাতার নিচে ভিজবে বাঙালির প্রাণের উৎসব।




