কলকাতা টাইমস নিউজ :নিউজ ডেস্ক :কলকাতা ,২৮ সেপ্টেম্বর :
ষষ্ঠীর সকাল থেকেই যেন শহর মেতেছে দ্বন্দ্বে। একদিকে কাশফুল-শিউলির ঘ্রাণে ভরপুর শারদীয় উৎসব, অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তানের ফাইনাল ম্যাচের টান। বাঙালির কাছে এ লড়াই যেন দুর্গা বনাম ক্রিকেট—মন আর মনের অসুরের যুদ্ধ।
আবহাওয়ার দফতর আগেই বৃষ্টির ভয় দেখিয়েছিল। কিন্তু ষষ্ঠীর ভোরেই দেখা গেল অন্য ছবি। কাঁচা হলুদের মতো মোলায়েম রোদ, শরতের হাওয়া, আকাশে সাদা মেঘ—বহুদিন পরে এমন নিখাদ পুজোর আবহ উপভোগ করল কলকাতা। আর তাতেই সকাল থেকেই প্যান্ডেলগুলিতে উপচে পড়ল ভিড়।
মন্দিরে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন। সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েরা মা ষষ্ঠীর কাছে প্রার্থনা করলেন। আর ওই কর্তব্য সেরে বয়স্করা পাড়ি দিলেন প্রিয় পুজোমণ্ডপে।
সন্ধে নামার আগেই ভিড় ছিল বেশি। কারণ, রাত নামতেই খেলা শুরু। ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের টান মিস করতে রাজি নয় বাঙালি।
লেকটাউন মোড়ে দেখা হল অয়ন্তিকার সঙ্গে। কোচিংয়ের সঙ্গীকে নিয়ে শ্রীভূমি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হেসে বললেন,
“ক্রিকেট তো বারো মাসই আছে। পুজো তো একটাই। তাই যতক্ষণ পারি ঠাকুর দেখে নেব। খেলা দেখতে বসুক ওরা, আমি প্যান্ডেলেই থাকব।”
অন্যদিকে, তাঁর বন্ধু একেবারেই ক্রিকেটপাগল। “পাকিস্তানকে হারাতে হবে। মা দুর্গা যেন আশীর্বাদ করেন অভিষেকদের।”
পাইকপাড়ার ৭৫ বছরের উমাদেবী এদিন এলেন বাগবাজারে। স্বামী অরুণাভর সঙ্গে ষষ্ঠীপুজো সেরে ঠাকুর দেখে বললেন,
“ছোটবেলা থেকে বাবার হাত ধরে এখানে আসি। এই আনন্দ না পেলে মন ভরে না। তবে উনি খেলা ছাড়া থাকতে পারেন না। সন্ধে থেকে খেলা, আমি তখন ওনার পাশে বসে জো হুজুরি করব।”
বৃদ্ধা-দম্পতির কথাতেই মিশে গেল পুজো আর ক্রিকেটের দ্বন্দ্ব।
একডালিয়ায় ভিড়ের মধ্যে দেখা গেল ডানকুনি থেকে আসা অভয়-সীমা দম্পতিকে। সঙ্গে আট বছরের মেয়ে ঋত্বিকা। সকালে টিফিন বানিয়ে এনেছেন। দুপুরে রাস্তার ধারের দোকানেই খাওয়া সেরেছেন।
অভয় বললেন, “মেয়ে শর্ত দিয়েছে—সাড়ে সাতটার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে। কারণ তখনই খেলা শুরু। পুজো নিশ্চয়ই আবেগ, কিন্তু ভারত-পাকিস্তান ফাইনালও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মা দুর্গার কাছে মানত করেছি, জিতলে অষ্টমীতে শাড়ি দেব।”
কলকাতার রাস্তায় আজ উৎসবের পাশাপাশি খেলাও বড় আকর্ষণ। কারও কাছে ঠাকুর দেখা অগ্রাধিকার, কারও কাছে আবার খেলা। কোথাও প্যান্ডেলের আলো, কোথাও টিভির সামনে পাড়া-ভিত্তিক জমায়েত।
এ যেন এক অন্য লড়াই—
“পুজো না ক্রিকেট?”
যদিও বাঙালির মনের ভেতরে হয়তো উত্তরটা আগেই লুকিয়ে—দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। দিনভর ঠাকুর, রাতভর খেলা। ষষ্ঠী রাত তাই হয়ে উঠছে বাঙালির কাছে দ্বিগুণ উৎসবের দিন।




