কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,০১ অক্টোবর :
পুজোর আলো-আলোড়নের মধ্যেই রক্তাক্ত খুনের ঘটনা। মহাষ্টমীর রাতে হাওড়ার বনবিহারী বসু লেনের সন্ধ্যাবাজার চত্বরে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হল বিহারের এক ব্যবসায়ীর। মৃতের নাম সুরেশ যাদব (৫৫)। বাড়ি বিহারের গোপালগঞ্জে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়, আতঙ্ক গ্রাস করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বনবিহারী বসু লেন ধরে হাঁটছিলেন সুরেশ। সেই সময় একটি মোটরবাইকে চেপে আসে দুই দুষ্কৃতী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাঁদের একজনের মাথায় হেলমেট ছিল, অপরজন সরাসরি সুরেশকে লক্ষ্য করে টানা তিন রাউন্ড গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যবসায়ী। স্থানীয়রা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনাকীর্ণ পুজো মণ্ডপ এলাকায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাওড়া থানার পুলিশ। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে—
-
সুরেশ যাদবের স্ত্রী গোপালগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান।
-
তাঁর বিরুদ্ধে বিহারে প্রায় দুই ডজন মামলা রয়েছে।
-
দীর্ঘ সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন তিনি।
-
বছর দুয়েক আগে গোপালগঞ্জেই তাঁর উপর হামলার চেষ্টা হয়, তবে সে যাত্রায় প্রাণে বাঁচেন।
এই তথ্যগুলির ভিত্তিতে তদন্তকারীদের ধারণা, পুরনো শত্রুতার জেরেই এই খুন হতে পারে। আগে থেকেই পরিকল্পনা করে তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। পুলিশের সন্দেহ, বিহারের দুষ্কৃতীদের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ থাকতে পারে।
হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি জানিয়েছেন—
-
ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
-
প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
-
সুরেশ যাদবের হাওড়ায় আসার খবর আগে থেকেই দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
-
এই ঘটনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পুলিশের হাতে এসেছে।
এছাড়াও জানা গিয়েছে, দু’দিন আগে হাওড়ায় এসেছিলেন সুরেশ। কালিতলা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি এবং মাঝেমধ্যেই এখানে আসতেন। সেই সূত্রেই সহজেই তাঁর গতিবিধি নজরে আসে দুষ্কৃতীদের।
দুর্গোৎসবের কোলাহলের মাঝেই গুলির শব্দ ও রক্তাক্ত খুনের ঘটনায় থমকে গিয়েছে হাওড়া। আলো ঝলমলে ব্যস্ত বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পুজোর সময় এভাবে জনবহুল এলাকায় খুন হওয়া নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “পুরনো বিরোধের কারণেই এই খুন হতে পারে। তবে সুরেশ যাদবের অপরাধমূলক অতীত, বিহারের যোগ এবং স্থানীয় সংযোগ—সব দিকেই তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা যাবে।”
এক কথায়, মহাষ্টমীর রাতে হাওড়ার এই শুটআউট শুধু একটি খুনের ঘটনা নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থারও বড়সড় চ্যালেঞ্জ। পুজোর উচ্ছ্বাসে মেতে থাকা জনতার মনে এখন শুধু একটাই প্রশ্ন— এমন রক্তাক্ত প্রতিশোধের খেলা চলতে থাকলে উৎসবের আনন্দ কোথায় নিরাপদ থাকবে?




