কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,০৩অক্টোবর :
‘মা আসছে’— এই ডাক ক’দিন ধরে ঘিরে রেখেছিল সমগ্র বাঙালির মনপ্রাণ। অথচ চোখের পলকেই এসে গেল সেই ক্ষণ, যখন বাঙালিকে গলা ভিজিয়ে বলতে হয়, ‘মা যাচ্ছেন।’ ষষ্ঠী থেকে শুরু হওয়া আবেগ, সপ্তমী-অষ্টমীর উন্মাদনা, নবমীর উৎসব— সব মিলিয়ে শেষ হলো দশমীর বৃষ্টিভেজা বিদায়ে। বাবুঘাটে সকাল থেকেই শুরু হয়ে গেল দুর্গা বিসর্জনের আচার।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মতো সকাল থেকেই আকাশে কালো মেঘ জমেছিল। দুপুর গড়াতেই নেমে এল বৃষ্টি। যেন স্বর্গও ভিজে চোখে জানাল মাকে বিদায়। বৃষ্টির ফোঁটা আর ঢাকের সুর মিলেমিশে তৈরি করল আবেগঘন পরিবেশ।
বাবুঘাট তখন রঙিন মানুষের ভিড়ে মুখর। শোভাযাত্রায় একের পর এক প্রতিমা এসে পৌঁছল। গঙ্গার ঘাটে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনির মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হলো বিদায়ের আচার। সধবাদের হাতে আলতা-সিঁদুরে রাঙিয়ে তুলল ঘাটের আবহ। সিঁদুরখেলার লাল রঙ গঙ্গার স্রোতে মিশে গেল, যেন আবেগ গলে পড়ল জলের বুকে।
মূর্তি গঙ্গায় নামতেই ভিজে উঠল দর্শকদের চোখ। অনেকে ঠোঁট কামড়ে বললেন, “আরও একটা বছর অপেক্ষা।” প্রতিমা গঙ্গায় ভাসতেই বাতাসে ভেসে এল কান্নাভেজা আবেগের সুর।
কলকাতার বিভিন্ন ঘাটে একই দৃশ্য। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুবান্ধবের দল নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। ভিড় বাড়লেও মানুষ ভিজে বৃষ্টিতেই সামিল হচ্ছেন বিদায়ের উৎসবে।
দশমীর এই আচার শুধু ধর্মীয় পর্ব নয়, বাঙালির সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনেরও প্রতীক। মা বিদায় নিতেই শুরু হলো দিনগোনা। ন্যাপথালিনে মুড়ে আবার সাজিয়ে রাখা হবে নতুন পুজোর স্বপ্ন। যত দিন যাবে, ততই বাঙালি মুখে মুখে বলবে— “মা আসছে।”




