কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা / ভুবনেশ্বর ,০৩অক্টোবর :
পুরীর জগন্নাথ মন্দির শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণেও অমূল্য এক সম্পদ। মন্দিরের হাজার বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে বহু বিরল নথি ও পুঁথি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি ক্ষয়ে যাচ্ছে। তাই এবার নতুন উদ্যোগ নিলেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন জানিয়েছে, মাদলা পঞ্জি-সহ গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্লভ নথিগুলি এবার ডিজিটাল আকারে সংরক্ষণ করা হবে।
কী এই মাদলা পঞ্জি?
জগন্নাথ মন্দিরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিলগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘মাদলা পঞ্জি’।
-
এই নথিতে লেখা আছে মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাস, রাজাদের দান, নানা আচার-বিধি, উৎসবের নিয়ম ও ধর্মীয় রীতিনীতি।
-
বলা হয়, জগন্নাথ মন্দিরের আদি থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সেখানে নথিভুক্ত আছে।
-
এই নথিই ওড়িশার ইতিহাস গবেষণার অন্যতম প্রধান উৎস।
কেন ডিজিটাল সংরক্ষণ?
শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের মুখ্য প্রশাসক অরবিন্দ পাধি জানিয়েছেন—
-
মন্দিরের মাদলা পঞ্জি, তালপাতার পুঁথি, বিরল দলিল ও অন্যান্য নথি বয়সের কারণে ক্ষয়ে যাচ্ছে।
-
এগুলি শুধু ভক্তদের কাছে পবিত্র নয়, গবেষকদের জন্যও অমূল্য সম্পদ।
-
তাই একটি ডিজিটাল লাইব্রেরি তৈরি করে সব নথি সেখানে রাখা হবে।
-
এতে একদিকে যেমন ঐতিহ্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে গবেষক ও ভক্তদের জন্য সহজলভ্য হবে তথ্য।
কীভাবে হবে সংরক্ষণ?
-
প্রতিটি পুঁথি ও পঞ্জিকে উচ্চমানের স্ক্যানার ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে।
-
সংরক্ষণের পাশাপাশি মন্দির প্রশাসন সেগুলি ক্যাটালগ আকারে সাজিয়ে রাখবে।
-
ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট অনুমতির ভিত্তিতে গবেষকরা ডিজিটালি এই তথ্যের নাগাল পাবেন।
অরবিন্দ পাধি এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ লিখেছেন,
“এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জগন্নাথ মন্দিরের কালজয়ী ঐতিহ্য রক্ষার জন্য। আমরা চাই আগামী প্রজন্মও যাতে মাদলা পঞ্জি ও অন্যান্য বিরল নথির মাধ্যমে ইতিহাস জানতে পারে।”
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তির সাহায্যে ভক্তদের জন্যও কিছু তথ্য উন্মুক্ত করা হবে।
ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, ডিজিটাল সংরক্ষণের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য জগন্নাথ মন্দিরের ইতিহাস আরও সহজলভ্য হবে। গবেষকরা বলছেন, এতদিন যেসব তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন ছিল, তা এখন হাতের নাগালে পাওয়া যাবে।
পুরীর জগন্নাথ মন্দির শুধু আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র নয়, এটি ইতিহাসেরও ভাণ্ডার। মাদলা পঞ্জি-সহ বিরল নথির ডিজিটাল সংরক্ষণ মন্দিরের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক মহৎ উদ্যোগ হয়ে উঠতে চলেছে।




