spot_img
29 C
Kolkata
Tuesday, April 21, 2026
spot_img

বিদ্যুতের তার আর মাথার উপর নয়, মাটির নিচে গড়ে উঠছে নতুন যুগের নেটওয়ার্ক !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা : ,১৩ অক্টোবর  :

রাজ্যের ৬ শহরে আকাশচুম্বী তারের দিন শেষ! আগামী বছর থেকেই আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট
খরচ ২,৮০০ কোটি টাকা, বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক দিচ্ছে মূল তহবিল। 

পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ পরিষেবায় আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। শিলিগুড়ি, চন্দননগর, খড়্গপুর, আসানসোল, বারুইপুর ও রাজারহাট — এই ছয় শহরে আর মাথার উপরে ঝুলবে না বিদ্যুতের তার।
ওই শহরগুলিতে শুরু হয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ, যা শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (WBSEDCL), মোট খরচ ২,৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক (AIIB)।

রাজ্য সরকারের এক কর্তা জানিয়েছেন,

  • রাজারহাট এলাকায় কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, বিশেষ করে এয়ারপোর্ট থেকে কেষ্টপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন আধুনিক বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর আওতায় আসছে।

  • খড়্গপুর ও চন্দননগরে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ।

  • বারুইপুরে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

  • শিলিগুড়ি ও আসানসোলে ৫০ শতাংশ কাজ এগিয়েছে।

রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন,

“ছয় শহরেই এই প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আশা করছি আগামী বছর মার্চের মধ্যেই সব শহরে কাজ সম্পূর্ণ হবে।”

আন্ডারগ্রাউন্ড পাওয়ার নেটওয়ার্ক চালু হলে বিদ্যুৎ পরিষেবার মান এবং স্থায়িত্ব দুই-ই বাড়বে বলে প্রশাসনের ধারণা।
এতে ঝড়-ঝঞ্ঝা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার ছিঁড়ে পড়ার মতো সমস্যার অবসান ঘটবে।
২০১৯ সালের আমফান ও ইয়াস-এর সময় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বহু এলাকায় দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ছিল না — সেই দুর্ভোগের কথা আজও ভুলতে পারেননি সাধারণ মানুষ।

নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এমন বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদী বিদ্যুৎ দপ্তর।
এছাড়া, পুজোর মরসুমে কলকাতায় জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রায় এক ডজন মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসিয়েছে।
এই আধুনিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ২০ লক্ষ গ্রাহক উপকৃত হবেন।
নতুন নেটওয়ার্কে বিদ্যুৎ বণ্টনের গুণমান যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রাহক পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতাও আরও দৃঢ় হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

এক বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্তা বলেন,

“প্রকল্পটি শেষ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের মান উন্নত হবে। ওভারহেড তার ছিঁড়ে পড়ার কারণে যে দুর্ঘটনা ঘটে তা থেকেও মুক্তি মিলবে। আমাদের লক্ষ্য — নিরাপদ, নিরবিচ্ছিন্ন ও আধুনিক বিদ্যুৎ পরিষেবা।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তা হবে দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক প্রকল্প।
এতে শুধু শহরের দৃশ্যপটই বদলাবে না, বাড়বে নিরাপত্তা ও নান্দনিকতাও।
শহরগুলির রাস্তা ও ফুটপাতের সৌন্দর্যও বাড়বে, কারণ মাথার উপরে জট পাকানো তারের জঙ্গল থাকবে না আর।

এক নজরে: প্রকল্পের মূল দিকগুলো

  • ৬ শহর: শিলিগুড়ি, চন্দননগর, খড়্গপুর, আসানসোল, বারুইপুর ও রাজারহাট

  • খরচ: ২,৮০০ কোটি টাকা

  • তহবিল: বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও AIIB

  • সমাপ্তির সময়সীমা: মার্চ ২০২৬

  • সুবিধাভোগী: প্রায় ২০ লক্ষ গ্রাহক


রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থার এই আধুনিকীকরণ প্রকল্প শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। আকাশে আর তারের জট নয় — ভবিষ্যতের শহর দেখবে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবার নতুন অধ্যায়।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks