কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা : ১৪ অক্টোবর :
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর তার মধ্যেই মঙ্গলবার বিজেপি ঘোষণা করল তাদের প্রথম প্রার্থী তালিকা। মোট ৭১ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে এই তালিকায়। এর মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের দুই উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় সিনহা। সম্রাট চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারাপুর কেন্দ্র থেকে, আর বিজয় সিনহা লড়বেন লখিসরাই আসন থেকে।
বিহারের ২৪৩ সদস্যের বিধানসভার ভোট দুটি দফায় হবে— ৬ নভেম্বর ও ১১ নভেম্বর, আর ভোটগণনা ১৪ নভেম্বর।
এনডিএ (জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট)-এর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই। বিজেপি ও জেডিইউ (জনতা দল ইউনাইটেড)-এর মধ্যে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তার মধ্যেই বিজেপির এই প্রথম তালিকা প্রকাশকে রাজনৈতিক মহল দেখছে একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে— দল আলোচনার অপেক্ষা না করে নিজেদের সংগঠন ও প্রচারযন্ত্র সক্রিয় করে দিচ্ছে মাঠে নামার আগে থেকেই।
দলীয় সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় আরও কিছু নাম ঘোষণা হতে পারে, তবে প্রথম তালিকাতেই বিজেপি তার নেতৃত্বকে সামনে এনে “leadership from the front” বার্তা দিয়েছে।
বিহারের রাজনীতিতে এই দুই মুখ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্রাট চৌধুরী হলেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি। অন্যদিকে বিজয় সিনহা, যিনি এক সময় বিধানসভার স্পিকার ছিলেন, তিনিও বর্তমানে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদে রয়েছেন।
এই দুই নেতাকে প্রার্থী করার অর্থ, বিজেপি শুধু ভোটে অংশ নিচ্ছে না, বরং পুরো নেতৃত্বকেই সরাসরি ময়দানে নামাচ্ছে। দলীয় কৌশল অনুযায়ী, এটি “বিশ্বাসের লড়াই”— যেখানে নেতারা নিজেরাই নিজেদের পারফরম্যান্সের বিচার জনগণের হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই বিজেপির এই পদক্ষেপের তাৎপর্য অনেক। কলকাতার এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,
“এটি স্পষ্ট এক রাজনৈতিক কৌশল। বিজেপি চাইছে— জোটের অন্দরের চাপ থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের স্বাধীন ভাবমূর্তি তৈরি করতে।”
আরেকজন যোগ করেন,
“সম্রাট ও বিজয়ের মতো নেতাদের প্রার্থী করা মানে হল— বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা।”
প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
“আমরা জনগণের উন্নয়ন, সুশাসন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়েই এই নির্বাচন লড়ব।”
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নির্বাচনে বিজেপি বিশেষ জোর দেবে উত্তর বিহার ও মগধ অঞ্চলে, যেখানে গত নির্বাচনে তারা তুলনামূলকভাবে দুর্বল পারফর্ম করেছিল।
একদিকে এনডিএ জোটে এখনও আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত নয়, অন্যদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও নিজের প্রার্থী তালিকা প্রকাশে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির প্রথম তালিকা প্রকাশ নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে—
“আমরাই প্রস্তুত, আর নেতৃত্ব দিতেই মাঠে নামছি।”
৬ নভেম্বর থেকেই শুরু হবে এই রাজ্যের ভাগ্যনির্ধারণী লড়াই, আর তার আগেই বিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিল— তারা পিছিয়ে নয়, বরং নেতৃত্ব দিচ্ছে আগাম রণধ্বনি।




