spot_img
20 C
Kolkata
Wednesday, February 18, 2026
spot_img

‘একজন ধর্ষণ করেছে, বাকিদের ভূমিকা স্পষ্ট নয়’— দুর্গাপুর কাণ্ডে মুখ খুললেন পুলিশ কমিশনার

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা : ১৫অক্টোবর 

দুর্গাপুর কাণ্ডে নতুন মোড়, “একজন ধর্ষণ করেছে, বাকিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে”— মন্তব্য পুলিশ কমিশনারের !


দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল রাজ্য। এই ঘটনার পর থেকে একদিকে যেমন তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে, তেমনি অন্যদিকে তদন্তের গতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার চার দিন পর অবশেষে মুখ খুললেন আসানসোল–দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, তদন্তের মোড় এবার নতুন দিকে ঘুরছে।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনার জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এফআইআর দায়ের করা হয় এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা নির্যাতিতার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছিল, সেটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। কমিশনার বলেন, “টেকনিক্যাল প্রমাণ এবং নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতে আপাতত বোঝা যাচ্ছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ধর্ষণ করেছে। তবে অন্যদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার ফরেন্সিক ও মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। রিপোর্টগুলি হাতে পেলেই গোটা চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে উঠে এসেছে নির্যাতিতার সহপাঠী বন্ধুর ভূমিকাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে ওই সহপাঠীর সঙ্গেই কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়েছিলেন তরুণী। কমিশনার বলেন, “সহপাঠীর পোশাক বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর কাছ থেকেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।”
তদন্তে প্রকাশ, ঘটনার সময় সহপাঠী বন্ধুটি উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু পরে তিনি কীভাবে এবং কখন সরে যান, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

গত শুক্রবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ নির্যাতিতা ও তাঁর সহপাঠী কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে বের হন। অভিযোগ, কলেজ সংলগ্ন জঙ্গলে ওই তরুণীকে টেনে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক এবং সেখানেই ঘটে ধর্ষণের ঘটনা। নির্যাতিতা গুরুতর মানসিক আঘাত পেয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তার অভাবে মেয়েকে রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর দাবি, “আমি আমার মেয়েকে এমন পরিস্থিতিতে এখানে রাখার ঝুঁকি নিতে পারি না।”

ঘটনার পর থেকেই দুর্গাপুর, আসানসোল ও কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মহিলা সংগঠন থেকে ছাত্র সংগঠন—সবারই দাবি, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার শিথিলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, “কলেজ সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত আলো বা টহল ব্যবস্থা নেই। এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।”

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই পাঁচ অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়েছে এবং তাঁদের হেফাজত মঞ্জুর হয়েছে। এখন ফরেন্সিক রিপোর্ট ও মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
কমিশনার সুনীল চৌধুরীর কথায়, “তদন্তের প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। কোনও প্রমাণ হাতে পাওয়ার আগেই কারও বিরুদ্ধে নিশ্চিত মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হবে।”

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks