কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৫অক্টোবর
ঢাকায় আসছেন জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক চাল !
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক। আজ রাতে ঢাকায় পৌঁছচ্ছেন পাকিস্তানের যৌথ প্রধানের কমিটির চেয়ারম্যান (Chairman of Joint Chiefs of Staff Committee) জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা—পদমর্যাদার দিক থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আধিকারিক। তাঁর এই সফরকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা, বিশেষত ভারতের কূটনৈতিক বৃত্তে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, জেনারেল মির্জা ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি দল নিয়ে আজ রাত সাড়ে ১১টার পর এমিরেটসের ফ্লাইট ইকে–৫৮৪ তে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন।
এই সফরের আগে সম্প্রতি ঢাকায় গিয়েছিল ভারতের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের তিন সদস্যের একটি দল, যারা সীমান্ত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে ফিরে গেছে গত সপ্তাহে।
অগস্ট ২০২৪ সালে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে প্রতিরক্ষা–কূটনৈতিক যোগাযোগ দ্রুত বেড়েছে। একাধিক পাক সামরিক ও আইএসআই কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সফর করেছেন।
বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সম্প্রতি তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্প্রসারণ করেছে। জেনারেল মির্জার সফরকে তাই তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের জেনারেলদের বৈঠক হবে সম্পূর্ণ গোপনে—তবে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময়ই থাকবে আলোচনার মূল বিষয়।
ভারতের কূটনৈতিক মহলে এই সফর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারণ, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতি ও পররাষ্ট্র কৌশলে ভারতের প্রভাব ক্রমশ কমছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকায় পৌঁছচ্ছেন পাকিস্তানের ফেডারেল ইকনমিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী আহাদ খান চিমা। তিনি বাংলাদেশের মুখ্য উপদেষ্টা ইউনুস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হুসেন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগে পাকিস্তানের জয়েন্ট স্টাফ হেডকোয়ার্টারের ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবাস্সুম হাবিব এবং ১৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি ঢাকায় পৌঁছে প্রস্তুতি নেন। গত মে মাসে পাকিস্তান আর্মির মেডিক্যাল কর্পসের তিন ব্রিগেডিয়ার বাংলাদেশ সফর করে কক্সবাজারের রামুতে অবস্থিত ১০তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন ঘুরে দেখেছিলেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করতে চাপ দিচ্ছে—GSOMIA (General Security of Military Information Agreement) এবং ACSA (Acquisition and Cross-Servicing Agreement)। এই চুক্তিগুলি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক তথ্য ও লজিস্টিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে।
২০২২ সালের নভেম্বর থেকে দায়িত্বে থাকা জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। গত ১৬ অক্টোবর ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে তিনি ফের কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে বলেন, “ভারত–পাকিস্তানের সমস্যা সমাধানে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা অত্যাবশ্যক।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর এই সফর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মোড় আনতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ ক্রমশ হয়ে উঠছে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ও প্রভাবের কেন্দ্রবিন্দু।




