spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

তামিলনাড়ুতে গ্যাংরেপ অভিযুক্তদের পালানোর চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে গ্রেপ্তার !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৪ নভেম্বর

তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে এক কলেজ ছাত্রীর উপর নৃশংস গণধর্ষণের অভিযোগে জড়িত তিন অভিযুক্তকে গুলি চালিয়ে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। রবিবার রাতে পালানোর চেষ্টা করার সময় অভিযুক্তরা এক পুলিশ কর্মীর উপর হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। এতে তিনজনই পায়ে গুলি লেগে আহত হয়।

কোয়েম্বাটুর শহরের বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম থাভাসি, করুপ্পাসামি ও কালীশ্বরন। তিনজনই শিবগঙ্গা জেলার বাসিন্দা এবং কোয়েম্বাটুরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। করুপ্পাসামি ও কালীশ্বরন পরস্পর আত্মীয় বলেও জানা গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধমূলক মামলা ছিল।

পুলিশের বিশেষ টিম কোয়েম্বাটুরের এক মন্দির সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের ঘিরে ফেলে। তখনই অভিযুক্তরা ধারালো দা হাতে পুলিশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে হেড কনস্টেবল চন্দ্রশেখর গুরুতর আহত হন, তাঁর বাঁ হাত ও কব্জিতে চোট লাগে।

আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়, যাতে তিন অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে। এরপর তাঁদের গ্রেপ্তার করে কোয়েম্বাটুর জেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত কনস্টেবলকেও একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে অভিযুক্ত তিনজন এক কলেজ ছাত্রী ও তাঁর পুরুষ বন্ধুর উপর হামলা চালায়। তাঁরা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি থামিয়েছিলেন। অভিযুক্তরা প্রথমে ছাত্রীর বন্ধুকে মারধর করে অচেতন করে দেয়, তারপর ছাত্রীটিকে অপহরণ করে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ করে।

এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

ঘটনার পর AIADMK সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাড়ি কে. পলানিস্বামী রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “ডিএমকে শাসনে তামিলনাড়ুতে নারীদের নিরাপত্তা ভয়াবহভাবে কমেছে। আমাদের আমলে মহিলারা সুরক্ষিত ছিলেন।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এল. মুরুগন বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে রাজ্যে নারীদের বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে।”

বিজেপি রাজ্য সভাপতি নৈনার নাগেন্দ্রন ঘোষণা করেছেন, এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিজেপি মহিলা মোর্চা সভাপতি ভানতী শ্রীনিবাসন বলেন, “এই ঘটনা ডিএমকে সরকারের আরেকটি কালো দাগ।”

বিজেপি নেতা কে. আন্নামালাই আরও বলেন, “ডিএমকে সরকার আসার পর থেকেই তামিলনাড়ুতে সমাজবিরোধীরা পুলিশের ভয় হারিয়ে ফেলেছে।”

পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে কোয়েম্বাটুর সিটি পুলিশ। ধর্ষণ এবং পরবর্তী গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর থেকে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। আহত পুলিশ কর্মী ও তিন অভিযুক্তের অবস্থা স্থিতিশীল বলেও জানানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে তামিলনাড়ুতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহল, মানবাধিকার সংগঠন ও সমাজকর্মীরা একবাক্যে দাবি তুলেছেন—
“দোষীদের দ্রুত শাস্তি ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।”

কোয়েম্বাটুরের এই নৃশংস ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক গভীর সংকেত। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও, প্রশ্ন রয়ে গেল— নারীরা কতটা নিরাপদ আজকের সমাজে ?

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks