কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :১০ নভেম্বর
নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১–এর কাছে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে থরথর করে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। আগুনের ফুলকি, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ, চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ছিন্ন দেহাবশেষ— দৃশ্যটা যেন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্রনাট্য। এই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ২৪ জনেরও বেশি মানুষ।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট নাগাদ বিস্ফোরণের খবর আসে নিয়ন্ত্রণকক্ষে। সঙ্গে সঙ্গে সাতটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রবল আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ৭টা ২৯ মিনিট নাগাদ। স্থানীয় দোকানগুলির কাঁচ ভেঙে যায়, একাধিক গাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আহতদের দ্রুত লোডি হাসপাতাল ও LNJP হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
অমিত মুদগল (৩৬), যিনি ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন, বলেন—
“আমি এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলাম। হঠাৎ পিছনেই কিছু পড়ার শব্দ। দেখি এক হাত, এখনো জামা পরা, আমার পিছনে পড়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লাল ধোঁয়ায় ঢেকে গেল আকাশ। মানুষজন চিৎকার করছে, সবাই ছুটছে প্রাণ বাঁচাতে।”
একজন আহত অটোচালক জানান,
“আমার সামনে একটা গাড়ি ছিল— হয়তো মারুতি সুইফট। হঠাৎ দেখি গাড়িটা জ্বলে উঠল, তারপরই বিকট শব্দ।”
জামা মসজিদের কাছে পানিপুরি বিক্রেতা মনোজ জানান,
“প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও শরীরে বিস্ফোরণের অভিঘাত টের পেয়েছি। সবাই দৌড়োচ্ছে, কেউ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এক অটোচালককে দেখি রক্তে ভেসে গিয়েছে।”
অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী ভূপিন্দর সিং বলেন—
“ট্রাফিক চলা শুরু করেছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ, গাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে গেল। কেউ জানে না কী ঘটেছে। চারদিকে শুধু আর্তনাদ, দু-তিনজনের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে ছিল।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওয় দেখা যায়, লোকজন চিৎকার করছে—
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। ফরেনসিক দল উদ্ধার করে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ ও প্রমাণস্বরূপ বস্তু। রাজধানীতে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট।
দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক অনুমান— ঘটনাটি হতে পারে যান্ত্রিক ত্রুটি, দুর্ঘটনাজনিত আগুন বা পরিকল্পিত নাশকতা। তবে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলা যায়নি।

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই দিল্লি পুলিশ একটি আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাস মডিউল ধ্বংস করার কথা ঘোষণা করেছিল। উদ্ধার হয়েছিল ২,৯০০ কেজিরও বেশি সন্দেহভাজন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, যার একটি অংশ থেকে একাধিক IED তৈরি করে হামলার ছক কষা হচ্ছিল বলে সন্দেহ।

এরপরই সন্দেহ দানা বাঁধে এই বিস্ফোরণকে ঘিরে।
সর্বশেষ আপডেটে, দিল্লি পুলিশ সালমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
সালমান জানিয়েছে, সে গাড়িটি নাদিম নামে আরেকজনকে বিক্রি করেছিল। গাড়িটি ওখলার এক এলাকায় বিক্রি হয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ এখন সালমানের বিবৃতি যাচাই করছে।
সমগ্র ঘটনায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আহত এবং মৃতদের পরিবার কে সমবেদনা জানান একইসাথে এমন ঘটনা কে তীব্র নিন্দা করেন।
দিল্লির রাস্তায় এখনো ভাসছে আতঙ্কের ছায়া। রাজপথে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। তদন্তে নেমেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। রাজধানীর এক ব্যস্ততম এলাকায় এই বিস্ফোরণ গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।




