কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :১৫ নভেম্বর
দিল্লির লালকেল্লার কাছে ১০ নভেম্বরের ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে নাটকীয় মোড়। বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। শুক্রবার উত্তর দিনাজপুর থেকে এক মেডিক্যাল ছাত্রকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। এই গ্রেপ্তারি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার দালখোলা সহ গোটা এলাকায়।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম নিশার আলম। তিনি জনিসার আলম ওরফে জিগার নামেও পরিচিত। হরিয়ানার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিবিএস গ্র্যাজুয়েট নিশার কয়েকদিন আগেই দালখোলা থানার অন্তর্গত নিজের পূর্বপুরুষের গ্রাম কোনালে ফিরেছিলেন এক আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে।
নিশারদের মূল বসবাস বর্তমানে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায়। সেখান থেকেই মা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গ্রামে এসেছিলেন।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, লালকেল্লার বিস্ফোরণের তদন্তে ফোন-লোকেশন, চ্যাট-রেকর্ড, অর্থ লেনদেনসহ একাধিক সূত্র ধরে এগোতে গিয়ে নিশারের নাম উঠে আসে। এরপরই NIA লুধিয়ানায় থাকা নিশারের বাবা তৌহিদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
জানা যায়, নিশার উত্তর দিনাজপুরেই রয়েছেন। এরপরই বিশেষ একটি NIA দল দ্রুত উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেয়।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সুর্যাপুর বাজার এলাকায় মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ধরে নজরদারি শুরু করে তদন্তকারীরা।
শুক্রবার সকালে সুর্যাপুর হাই স্কুলের কাছে নিশারকে আটক করে NIA-র দল। এরপর তাঁকে প্রথমে ইসলামপুরে, পরে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি দু’বার ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন— একবার আটক হওয়ার ঠিক পরেই, আরেকবার শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়ার আগে।
কোনাল গ্রামে নিশারের গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে উৎকণ্ঠা ও অবিশ্বাসের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গ্রামের মানুষ বছর বছর তাঁকে দেখতে পান না— পড়াশোনার কারণেই বাইরে থাকতেন বেশিরভাগ সময়।
পরিবারের দাবি, নিশার একেবারেই নির্দোষ।
নিশারের কাকা আবুল কাসেম বলেন—
“ও খুব শান্ত, ভদ্র ছেলে। সারাদিন বই ছাড়া কিছু বোঝে না। এমন অভিযোগ আমরা বিশ্বাসই করতে পারছি না।”
NIA এখন নিশারের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগসূত্র, তার ফোন ও ডিজিটাল ডাটা, এবং বিস্ফোরণের আগের কার্যকলাপ সবই খুঁটিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই গ্রেপ্তারি লালকেল্লা বিস্ফোরণ-কাণ্ডের মূল নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
নিকটবর্তী এলাকায় পুলিশি নজরদারি আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে।




