spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ডের ছায়া: মুশারফ–হাসিনা তুলনায় উঠে এলো ভুট্টোর অন্ধকার অধ্যায় !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :১৮ নভেম্বর

ক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস যেন বারবার ফিরে যায় একই জায়গায়—গণঅভ্যুত্থান, ক্ষমতাচ্যুতি, বিশেষ আদালতের রায়, আর নির্বাসনে ঠেলে দেওয়া রাষ্ট্রনেতা। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক মৃত্যুদণ্ডের রায় নতুন করে আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে পাকিস্তানের প্রাক্তন সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মুশারফের ঘটনাকেও। দু’দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও ভাগ্যের এক অদ্ভুত সাযুজ্যে দু’জনই ক্ষমতা হারিয়েছিলেন গণঅভ্যুত্থানের চাপে, বিদেশে থাকার সময়ই শুনেছিলেন মৃত্যুদণ্ডের সাজা।

১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নওয়াজ শরিফকে সরিয়ে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছিলেন পারভেজ মুশারফ। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি পদে থেকেছেন।
কিন্তু বিরোধীদের ক্রমবর্ধমান আন্দোলন, আইনজীবীদের ‘জাজমেন্ট’ মুভমেন্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সংঘাত—সব মিলিয়ে ২০০৮ সালে ইমপিচমেন্ট এড়াতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। সেদিনই শেষ হয়নি তাঁর রাজনৈতিক বিপর্যয়; একই বছরের নভেম্বরে তিনি পাকিস্তান ছেড়ে বিদেশে চলে যান।

২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পেশোয়ার হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। ২০০৭ সালে সংবিধান বাতিল করে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করাই ছিল তাঁর ‘সবচেয়ে বড় অপরাধ’—মত আদালতের।
রায়ের ভাষা ছিল ভয়াবহ—
যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগেই মুশারফ মারা যান, তাঁর মৃতদেহ ইসলামাবাদের ‘ডি-চকে’ তিন দিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হবে।

তবে সেই রায় আর বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৩ সালে লন্ডনে তাঁর মৃত্যু হয়। পাকিস্তান পার্লামেন্ট পর্যন্ত তাঁকে “শেষ শ্রদ্ধা” জানাতে অস্বীকার করে। করাচিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই নিঃশব্দে দাফন করা হয় তাঁকে।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর আবার ইতিহাস খুঁড়ে দেখা শুরু করেছে উপমহাদেশ। হাসিনার বিরুদ্ধেও অভিযোগ—বিক্ষোভ দমন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁর ভূমিকা। বিদেশে অবস্থানরত অবস্থাতেই শুনতে হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ঘোষিত সাজা।

দু’জনের গল্পের মিল বিস্ময়কর—
🔹 গণঅভ্যুত্থানের চাপ
🔹 ক্ষমতাচ্যুতি
🔹 বিদেশে অবস্থান
🔹 বিশেষ আদালতের রায়
🔹 আত্মপক্ষ সমর্থনের সীমিত সুযোগ
সব মিলিয়ে এক রাজনৈতিক চক্র বারবার ঘুরে ফিরে গ্রামের ঘড়ির মতো।

তবে দক্ষিণ এশিয়ায় কোনো প্রাক্তন রাষ্ট্রনেতার মৃত্যুদণ্ড বাস্তবে কার্যকর হওয়ার নজির মাত্র একটিই—জুলফিকর আলি ভুট্টো।
১৯৭৭ সালে সেনাপ্রধান জিয়াউল হকের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন ভুট্টো। পরে খুনের মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যদিও তাঁর পরিবার ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির দাবি—এ সবই ছিল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।

১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
দশক পরে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট স্বীকার করেছে—ভুট্টো ন্যায়বিচার পাননি, তাঁর বিচার হয়নি “স্বচ্ছ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায়”।

ভুট্টোর এই ঘটনা এখনও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়।

মুশারফ ও ভুট্টো—দু’জনের রাজনৈতিক পরিণতির সঙ্গে এখন তুলনা করা হচ্ছে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎকে।
কিন্তু তিনটি ঘটনায়ই রয়েছে ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, সামরিক স্থাপত্যের চাপ, বিচারব্যবস্থার বিতর্ক এবং ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’-এর মতো সংবেদনশীল অভিযোগ।

অনূদিকে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতি তে বলা হয় :

ঢাকা, নভেম্বর ১৭, ২০২৫: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড একটি ঐতিহাসিক রায়। এই রায়ের গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

রায়-পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা, উত্তেজনাপ্রসূত আচরণ, সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে। জনগণের, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই রায়কে ঘিরে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই আবেগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেই আবেগের বশবর্তী হয়ে যেন কেউ জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়—সরকার এ বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সবাইকে সতর্ক করছে। সরকার আরও স্পষ্ট করে জানাচ্ছে, যে কোনো ধরনের অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা বা জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

Statement of Chief Adviser Professor Muhammad Yunus

DHAKA, Today, the courts of Bangladesh have spoken with a clarity that resonates across the nation and beyond. The conviction and sentencing affirm a fundamental principle: no one, regardless of power, is above the law. This verdict offers vital, if insufficient, justice to the thousands harmed in the uprising of July and August 2024, and to the families who still carry their loss.

We stand at a moment of rebuilding democratic foundations wrecked by years of oppression. The crimes at issue—the ordering of lethal force against young people and children whose only weapons were their voices—violated both our laws and the basic bond between government and citizens. These acts outraged Bangladeshis’ core values: dignity, resilience, and commitment to justice.

As many as 1,400 lives were lost. They were not statistics but students, parents, and citizens with rights. Months of testimony detailed how lethal force, even from helicopters, was used against unarmed protesters. This verdict recognizes their suffering and confirms that our justice system will hold perpetrators accountable.

Bangladesh is now rejoining global currents of accountability. The students and citizens who stood for change understood this, and many paid with their lives—giving their today for our tomorrow.

The path ahead requires not just legal accountability but rebuilding trust between institutions and citizens. Understanding why people risk everything for genuine representation—and creating systems worthy of that trust—is essential. Today’s verdict is a step on that journey.

I have every confidence that Bangladesh will meet the challenges ahead with courage and humility. With commitment to the rule of law, human rights, and each person’s potential, justice will not merely survive in Bangladesh. It will prevail and sustain.

দক্ষিণ এশিয়ার আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাস দেখাচ্ছে—শাসকের ক্ষমতা যত অটুটই হোক, জনবিক্ষোভে ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা ততই প্রবল  আবার  আদালতের রায়ে প্রকাশ পায় রাষ্ট্রের গভীর রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আর নির্বাসনে গিয়েও মুক্তি পাওয়া যায় না বিচার ও রায়ের ছায়া থেকে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks