কলকাতা টাইমস নিউজ :কলকাতা :২০ নভেম্বর
বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলীর কলমে :
কলকাতার রাস্তায় ফের উৎসবের আবহ। প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলকাতা পুলিশের আয়োজিত ‘সেফ ড্রাইভ সেফ লাইফ’ হাফ ম্যারাথন। কিন্তু ২০২৬ সালের দৌড়কে ঘিরে প্রত্যাশা এবার অনেকটাই বেশি। কারণ, কলকাতা পুলিশ বুধবার ঘোষণা করেছে—আগামী বছরের এই প্রতিযোগিতা থেকেই খুলে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্সে পা রাখার দরজা।
২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ–এর জন্য কোয়ালিফায়ার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ১০ কিলোমিটার এবং ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন রেস। দক্ষিণ কোরিয়ার ডেগু শহরে ২২ অগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবে এই বিশ্ব প্রতিযোগিতা।ফলে, ৩৫ বছরের বেশি বয়সি অংশগ্রহণকারীদের জন্য কলকাতা পুলিশের এই দৌড় এবার হয়ে উঠছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ, আরও মর্যাদাপূর্ণ।
কলকাতা পুলিশের বার্ষিক এই ইভেন্টকে ঘিরে শহরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয় প্রতি বছরই। শুধু দৌড় নয়, ট্রাফিক সচেতনতা, সড়ক নিরাপত্তার বার্তাও ছড়িয়ে দেয় এই প্রতিযোগিতা।
কিন্তু এবার যোগ হলো এক নতুন অধ্যায়—আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখার আসর।
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬—এই দিনেই অনুষ্ঠিত হবে ম্যারাথন। কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে এবং পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন দফতরের সহায়তায় আয়োজিত হবে এটি। আয়োজন কমিটি মনে করছে, কোয়ালিফায়ারের মর্যাদা পাওয়ার পর এবার দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিজ্ঞ ও নবীন অ্যাথলেটদের স্রোত নামবে শহরের রাস্তায়।
শহরের পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা বলেন—
“প্রতিটি ভোর আমাদের মনে করায় যে একটি মেগাসিটি টিকে থাকে শৃঙ্খলা ও সহানুভূতির ওপর। ‘সেফ ড্রাইভ সেফ লাইফ’ সেই বার্তাকেই এগিয়ে নিয়ে যায়। এখন এটি শুধু ক্যাম্পেন নয়, নাগরিকতার অংশ। এই হাফ ম্যারাথন তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”
এ বারের ম্যারাথন তিনটি প্রধান বিভাগের রেস নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে—
-
৫ কিলোমিটার
-
১০ কিলোমিটার (কোয়ালিফায়ার)
-
২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন (কোয়ালিফায়ার)
বিশ্ব মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে অংশ নেন ৩৫ বছরের ঊর্ধ্ব অ্যাথলেটরা। ৫ বছরের বয়সভিত্তিক ব্যান্ড—৩৫–৩৯, ৪০–৪৪, ৪৫–৪৯—এইভাবে প্রতিযোগিতার আলাদা গ্রুপ তৈরি হয়। পুরুষ ও মহিলা আলাদা বিভাগে অংশ নেন, কিন্তু সবার ক্ষেত্রেই বয়সের ব্যান্ড অভিন্ন।
যোগ্য বয়স থাকলেই অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে এই বাছাই পর্বে।
কেন এত গুরুত্ব?
-
শহরের সবচেয়ে বড় দৌড় উৎসব
-
ট্রাফিক সচেতনতার বার্তা
-
দৌড়বিদদের আন্তর্জাতিক সুযোগ
-
কোয়ালিফায়ার হিসেবে সারা দেশের অ্যাথলেটদের আগমন
-
কলকাতার দৌড় সংস্কৃতির মর্যাদা বৃদ্ধি
কলকাতা পুলিশের ছোট্ট উদ্যোগ আজ বিশ্বমঞ্চে পথ খুলে দিল বহু দৌড়বিদের। শহর আবারও প্রস্তুত—দৌড়, উৎসব, সচেতনতা আর আন্তর্জাতিক সুযোগের এক অনন্য মিলনমেলায়।
যদিও শীতের ভোরের কলকাতা—কুয়াশা ভেদ করে যখন প্রথম রোদ ঝরে পড়ে, তখন থেকেই শহরের পথজুড়ে দেখা যায় দৌড়বিদদের ব্যস্ততা। প্রতি বছরই এই সময় কলকাতা পুলিশ হাফ ম্যারাথনের অপেক্ষায় থাকেন তাঁরা।
কিন্তু এ বছর যেন উত্তেজনার মাত্রা আরও একটু বেশি।
“এটা তো শুধু দৌড় নয়, জীবনের অংশ”—বললেন এক অভিজ্ঞ দৌড়বিদ।
আর এবার সেই ‘জীবনের অংশ’ হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক স্বপ্নপূরণের দরজা।
১০ কিমি আর ২১ কিমি রেস পেল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের টিকিট জেতার সম্ভাবনা। ডেগুর পথ এখন কলাময়।
আর এই আয়োজনকে সামনে রেখে পুলিশ কমিশনারের কথাও গভীরভাবে অনুরণিত—
“সেফ ড্রাইভ সেফ লাইফ আর দৌড়—দুই-ই নাগরিকতার চর্চা।”
শহর প্রস্তুত। দৌড়বিদ প্রস্তুত। বাকি শুধু সেই ভোর, যেদিন দৌড়ে দৌড়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাবার স্বপ্ন বাস্তব হয়ে উঠবে।




