কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২০ নভেম্বর
দেশজুড়ে জাল বিস্তার করা সন্ত্রাস-গ্যাংস্টার চক্রের অন্যতম মুখ অনমোল বিশ্নোইকে অবশেষে ১১ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠাল দিল্লির একটি বিশেষ আদালত। বুধবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই পাটিয়ালা হাউস কোর্টে তাঁকে পেশ করা হয়। র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-সহ একাধিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ছিল।
অনমোল বিশ্নোই— মূলত কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোইয়ের ভাই এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ—
• এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকির খুন
• পাঞ্জাবি গায়ক সিদ্ধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ড
• সালমান খানের বাড়িতে গুলিবর্ষণ (এপ্রিল ২০২৪)
• দেশে ২০২০ থেকে ২০২৩-এর মধ্যে একাধিক সন্ত্রাসঘটিত কাজের সঙ্গে জড়িত থাকা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের (‘removal’) পরই বুধবার এনআইএ-র হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধরা পড়ে অনমোল। গত বছর নভেম্বরে আমেরিকায় আটক হওয়ার পর প্রায় এক বছর ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলছিল।
এনআইএ অনমোলের ১৫ দিনের হেফাজত চেয়েছিল। তবে বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মা ১১ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেন। এই সময়ের মধ্যে সংস্থাটি তাঁর কাছ থেকে সন্ত্রাস-গ্যাংস্টার চক্রের নানা দিক জানার চেষ্টা করবে।
এনআইএ-র বক্তব্য—
২০২৩ সালের মার্চ মাসে দায়ের করা চার্জশিটেই পরিষ্কার হয়েছিল,
অনমোল সরাসরি গোল্ডি ব্রার এবং লরেন্স বিশ্নোইকে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছিল।
আদালতের বাইরে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রাহুল ত্যাগী বলেন—
“অনমোল এই গ্যাংস্টার-টেরর নেটওয়ার্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাঁর কাছে বড় তথ্য আছে। কীভাবে এই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হত, টাকা কোথা থেকে আসত, কারা যুক্ত— সব জানতে হবে।”
তিনি আরও জানান,
“আমরা জানতে চাই— কীভাবে সে ভারত থেকে পালিয়ে বিদেশে পৌঁছেছিল।”
উল্লেখযোগ্য বিষয়, নিরাপত্তার কারণে বিচার প্রক্রিয়ার সময় সংবাদমাধ্যমকে আদালত কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
২০২২ সাল থেকে ফেরার অনমোলকে এনআইএ এখন এই মামলার ১৯তম গ্রেফতার বলে চিহ্নিত করছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে আটকের পর দেশে ফিরতেই তাকে সন্ত্রাস-গ্যাংস্টার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এনআইএ গ্রেফতার করে।
দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিস্তৃত অপরাধচক্র ভেঙে দিতে অনমোলকে জেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।




