কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা / নয়াদিল্লি :২৪ নভেম্বর
বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলির কলমে :
নয়াদিল্লিতে ১৯ নভেম্বর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং বাংলাদেশের এনএসএ খলিলুর রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠককে ঘিরে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক মহলে। কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ শুরুর ঠিক আগের দিন অনুষ্ঠিত এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
যদিও বাংলাদেশ জানিয়েছিল, তাদের এনএসএ-র ভারত সফর মূলত কনক্লেভ-সংশ্লিষ্ট। কিন্তু ঢাকার নিজেদের নথিপত্রে সফরকে দু’দিনের কর্মসূচি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে—অতিরিক্ত একদিনের উদ্দেশ্য আসলে কী ছিল?
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের (MEA) সূত্র বলছে,
১৯ নভেম্বর পুরো দিন জুড়ে দোভাল ও ভারতীয় নিরাপত্তা শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে ‘বন্ধ দরজার ভিতর’ বৈঠকেই সময় কাটান খলিলুর রহমান।
অপরদিকে সূত্রের খবর, বৈঠকে ভারত স্পষ্ট জানায় যে ঢাকার কয়েকটি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। উল্লেখ :
১. দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের আগাম মুক্তি
বাংলাদেশে কঠোর শাস্তিপ্রাপ্ত জঙ্গিদের দ্রুত মুক্তির যে ঘটনা সামনে এসেছে, ভারত তা বাড়তি ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
২. উত্তর সীমান্তে জঙ্গি ঘাঁটির খোঁজ
লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও সৈয়দপুর—এই চারটি জেলায় জঙ্গিদের সম্ভাব্য লুকোনো কেন্দ্র তৈরি হওয়া নিয়েও দোভাল সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।
৩. বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ইসলামপন্থী প্রভাব
রাজনীতি থেকে প্রশাসন—সব ক্ষেত্রেই এক ধরনের ধর্মীয় প্রভাব বাড়ছে বলে ভারতের আশঙ্কা। এ বিষয়ে ভারত আরও স্বচ্ছ তথ্য ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ চেয়েছে।
এদিকে মাত্র একমাস আগে ১৪–১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করেন ভারতের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স (MI) টিম। নেতৃত্বে ছিলেন একজন মেজর জেনারেল।
✔ ঢাকা সেনানিবাসে উচ্চপদস্থ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক
✔ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে সীমান্তাঞ্চল পরিদর্শন
✔ সীমান্তের ‘সংবেদনশীল জেলা’ গুলিতে জঙ্গি গতিবিধির প্রমাণ খোঁজা
তবে সফরের সময়ই ঘটে আরেক বিতর্ক—
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের কম্যান্ডিং অফিসাররা ভারতীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি।
এ ঘটনাকে ভারত অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছে।
এই সফরেই ভারত বাংলাদেশের হাতে একটি বিস্তারিত ডসিয়ে তুলে দেয়—যেখানে ছিল সন্দেহভাজন ব্যক্তি, জঙ্গি নেটওয়ার্ক ও সীমান্ত-সংক্রান্ত গোপন তথ্য।
সূত্রের মতে, এ ডসিয়েই ১৯ নভেম্বরের বৈঠকের ‘জরুরি চরিত্র’ আরও প্রকট করেছে।
অন্যদিকে ২০ নভেম্বর কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে মুখোমুখি দেখা যায় দোভাল ও রহমানকে।
সেখানে বাংলাদেশ তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনরায় জানায়।
কিন্তু কূটনৈতিক মহলের দৃষ্টিতে—
আসল কথোপকথন, আসল নিরাপত্তা বার্তা, আসল সতর্কতা—সবই হয়ে গেছে আগের দিন গোপন বৈঠকে।
আবার বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ—
-
ভারত–বাংলাদেশের ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং বাড়ছে,
-
তবে বিশ্বাসের ঘাটতি এবং ঢাকার অভ্যন্তরীণ পালাবদল ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে,
-
সীমান্ত পরিস্থিতি ও ধর্মীয় প্রভাব—দুটিকে কেন্দ্রীয় করে নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়।
যদিও পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠবে, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও চাপ—দুই দিকই বাড়বে।




