কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৪ নভেম্বর
৮৯ বছর বয়সে কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণ, বাকরুদ্ধ চলচ্চিত্র দুনিয়া
মুম্বইয়ের চলচ্চিত্রজগতে নেমে এল শোকের ছায়া। বলিউডের ‘হি-ম্যান’ খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র (Dharmendra) আর নেই। সোমবার সকালে ৮৯ বছর বয়সী এই তারকার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভক্ত, সহকর্মী, রাজনৈতিক মহল—সবাই যেন স্তব্ধ। যদিও পরিবার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি, তবে তাঁর মৃত্যুসংবাদ একাধিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দিন কয়েক আগেই মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ধর্মেন্দ্রজি। ১২ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়াও দেওয়া হয়। চিকিৎসক ড. রাজীব শর্মা জানিয়েছিলেন—‘যা চিকিৎসা লাগত সব পেয়েছেন, তিনি সন্তুষ্ট হয়েই বাড়ি ফিরেছেন।’ ভক্তরা ভেবেছিলেন, এ ভাবেই হয়তো ফিরবেন পর্দায়। কিন্তু না, সেই প্রত্যাবর্তন আর হল না।
সোমবার সকালে ধর্মেন্দ্র মুম্বইয়ের বাসভবনে হঠাৎ করে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেখা যায়। নিরাপত্তার কারণে বাড়ির আশপাশের এলাকা ৫০ মিটার দূর পর্যন্ত ব্যারিকেড করে দেয় পুলিশ। এরপরই ছড়িয়ে পড়ে আশঙ্কাজনক খবর।
সময়ের সঙ্গে সামনে আসে দুঃসংবাদ—ধর্মেন্দ্রজি আর নেই। শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ছুটে যান হেমা মালিনী, ঈশা দেওল। হাজির ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, অগস্ত্য নন্দা, আমির খান, সলমান খান সহ বলিউডের বহু তারকা।
পাওন হংস ক্রেমেশন সেন্টারের সামনে চলচ্চিত্র দুনিয়ার এহেন ভিড় চোখে পড়ার মতো।
১৯৬০ সালে “Dil Bhi Tera Hum Bhi Tere” দিয়ে অভিনয়ে হাতেখড়ি। তারপর যেন সাফল্যের স্রোতে ভাসতে থাকেন অভিনেতা।
‘শোলে’, ‘ধরম বীর’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘বান্দিনী’, ‘অনুপমা’, ‘ড্রিম গার্ল’—ধারাবাহিকভাবে এমন সব চলচ্চিত্র, যা বলিউড ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
তার সুঠাম ব্যক্তিত্ব, আকর্ষণীয় উপস্থিতি আর মাটির টান—ধর্মেন্দ্র কে বানিয়েছিল সর্বকালের জনপ্রিয় হিরো।
তিনি আগামী ৮ ডিসেম্বর ৯০-এ পা দিতেন। তার আগেই চিরবিদায়।
সম্প্রতি শাহিদ কাপুর ও কৃতি স্যানন অভিনীত Teri Baaton Mein Aisa Uljha Jiya–তে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
আগামী ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে চলা অগস্ত্য নন্দা অভিনীত Ikkis–এও তাঁর অভিনয় দেখা যাবে।
অন্যদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন—
“ভারতের চলচ্চিত্র জগৎ এক অমূল্য নক্ষত্রকে হারাল, যিনি কয়েক দশক ধরে দর্শকের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন।”
চলচ্চিত্র পরিচালক করণ জোহর আবেগঘন স্মৃতিচারণায় লিখেছেন—
“এক যুগের অবসান… এক বিশাল ব্যক্তিত্ব, এক মেগাস্টার। তাঁর অনন্য উপস্থিতি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”




