spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ফের দিল্লিকে চিঠি ঢাকার—প্রত্যর্পণ চুক্তি ঘিরে নতুন উত্তেজনা !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৪  নভেম্বর

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ফের ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালো। শুক্রবার বিশেষ বাহকের মাধ্যমে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে একটি চিঠি পৌঁছে দেয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, দ্রুত সম্ভব নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রকে চিঠিটি পৌঁছে দেওয়া হোক। যদিও ভারত এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি।

গত বছরের জুলাই-অগস্ট মাসে বাংলাদেশজুড়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নেয়। সেই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্দোলনের সময় ‘গণহত্যা’ ঘটানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরবর্তীতে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সেই মামলায় হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির রায় দেয়।

রায় ঘোষণার আগে থেকেই হাসিনা ভারতীয় ভূখণ্ডে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ভারতের সুরক্ষায় রয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রচার।

এর আগেও বাংলাদেশ সরকার ভারতকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছিল। ভারত সরকারি ভাবে ওই বার্তা গ্রহণ করলেও, কোনও সিদ্ধান্ত বা অবস্থান প্রকাশ্যে জানায়নি। এবার সরাসরি প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হলো।
চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে—
“আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায় অনুসারে হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে ভারত যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।”

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর রয়েছে—শেখ হাসিনার আমলেই সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী—

  • আদালতের দোষী সাব্যস্ত রায়ের ভিত্তিতে অপরাধীকে হস্তান্তর করা সম্ভব

  • রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ হলে প্রত্যর্পণ করা যাবে না

  • তবে খুন, গুম, নির্যাতন—এ ধরনের অভিযোগকে রাজনৈতিক অপরাধ ধরা হবে না

  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত:
    বিচার যদি ন্যায্য উদ্দেশ্যে না হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা-প্রণোদিত হয়, তবে ভারত বা বাংলাদেশ কেউই প্রত্যর্পণ করবে না।

অর্থাৎ, হাসিনা ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্ত এই শর্তগুলোর ওপরই নির্ভর করবে।

হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করার পর ভারত পররাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়—

  • ভারত পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত

  • বাংলাদেশকে “ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী” হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়,
    “ভারত সর্বদা বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে।”

  • দিল্লি জানায়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে এগোবে।

এখন প্রশ্ন উঠছে—ঢাকার নতুন চিঠির পর ভারত কোন পথে হাঁটবে? রাজনৈতিক অপরাধের ধারা, ন্যায্য বিচারের প্রশ্ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জল্পনা—

  • ভারত কি প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে?

  • নাকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে হাসিনাকে আশ্রয় দেবে?

  • বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ কীভাবে প্রতিফল পায় নয়া দিল্লির নীতিতে?

সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks