কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৫ নভেম্বর
অবশেষে এল সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত—অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রধান শিখরে উত্তোলিত হল বিশেষ গেরুয়া রঙের ত্রিভুজাকার ধ্বজা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলনকে অনেকে বলছেন ‘দ্বিতীয় প্রাণ প্রতিষ্ঠা’—কারণ মন্দিরের নির্মাণকাজ কার্যত পুরোপুরি শেষ।
মঙ্গলবার দুপুরে শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রোচ্চারণ ও বৈদিক আচার্যের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় এই অনুষ্ঠান। অযোধ্যা সাক্ষী থাকে আরেকটি নতুন অধ্যায়ের সূচনায়।
ত্রিভুজাকার বিশেষ ধ্বজার বৈশিষ্ট্য ,মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে —
-
ধ্বজার উচ্চতা: ১০ ফুট
-
দৈর্ঘ্য: ২০ ফুট
-
তাতে রয়েছে
✔ স্বর্ণাভ সূর্যমুখী প্রতীক
✔ ‘ওঁ’ অক্ষর
✔ পবিত্র কোবীদার বৃক্ষের চিত্র
এই প্রতীকমালা সম্মান, সাহস, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
ধ্বজা উত্তোলনের আগের দিন থেকেই অযোধ্যায় উপচে পড়েছে দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও পর্যটকের ভিড়।
-
প্রায় ১০০ টন ফুল দিয়ে মন্দির ও আশপাশের অঞ্চল সাজানো হয়েছে
-
রাস্তাজুড়ে আলোকসজ্জা
-
হোটেল, ধর্মশালা ও আশ্রয় কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়
অযোধ্যার প্রশাসন জানিয়েছে—
-
মোট ৬,৯৭০ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন
-
এর মধ্যে রয়েছে
✔ এনএসজি স্নাইপার
✔ এটিএস কমান্ডো
✔ সাইবার ইউনিট
✔ প্রযুক্তিগত বিশেষ টিম
পুরো মন্দির কমপ্লেক্সে সিসিটিভি নজরদারি, ড্রোন পর্যবেক্ষণ এবং প্রবেশপথে মাল্টি-লেয়ার সিকিউরিটি ব্যবস্থা চালু।
নির্মাণ সম্পূর্ণ—একই প্রাচীরের ভেতরে সাতটি মন্দির
শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট জানিয়েছে, বিশাল রামমন্দির ছাড়াও একই প্রাচীরের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে—
-
শিব মন্দির
-
গণেশ মন্দির
-
হনুমান মন্দির
-
সূর্য মন্দির
-
ভগবতী মন্দির
-
মা অন্নপূর্ণা মন্দির
সব মন্দিরের শিখরে ইতিমধ্যেই কলস ও ধ্বজাদণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবারের মূল পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কার্যত নির্মাণ পর্বের পরিসমাপ্তি।
রামমন্দির নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও অপেক্ষার পর—
-
২০২০ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী মোদী সম্পন্ন করেছিলেন ভূমি পুজো
-
২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি গর্ভগৃহে রামলল্লার প্রণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠিত হয়
-
২০২5 সালের এই পতাকা উত্তোলন—বিশেষজ্ঞদের মতে “মন্দির নির্মাণের চূড়ান্ত পর্ব”
অন্যদিকে ট্রাস্ট সূত্রে তথ্য—
-
দেশ-বিদেশ থেকে অর্ঘ্য ও অনুদান হিসেবে সংগ্রহ: ৩,০০০ কোটি টাকা
-
এ পর্যন্ত খরচ: প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা
-
বাকি কাজের আনুমানিক খরচ: ১,৮০০ কোটি টাকা
মন্দির নির্মাণ কমিটির সভাপতির বক্তব্য—“রামভক্তদের আর্থিক সহযোগিতাই এই মহাপ্রকল্পকে সফল করেছে।”
✔ রামমন্দিরের শিখরে বিশেষ গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করলেন প্রধানমন্ত্রী
✔ নির্মাণকাজ কার্যত সম্পূর্ণ, এটিকে ‘দ্বিতীয় প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ বলছেন অনেকে
✔ ১০ ফুট × ২০ ফুটের ত্রিভুজাকার ধ্বজায় ‘ওঁ’, সূর্যমুখী প্রতীক ও কোবীদার বৃক্ষ
✔ অযোধ্যায় সাজসজ্জা—১০০ টন ফুল, আলোকময় শহর
✔ নিরাপত্তা—৬,৯৭০ কর্মী মোতায়েন, এনএসজি ও এটিএসসহ
✔ ভূমি পুজো (২০২০) থেকে প্রতিষ্ঠা (২০২৪) হয়ে পতাকা উত্তোলন (২০২5)
✔ অনুদান ৩,০০০ কোটি, ব্যয় ১,৫০০ কোটি এবং প্রকল্পের প্রায় সমাপ্তি




