spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মৃত্যু ৪৪, নিখোঁজ প্রায় ৩০০ !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৭ নভেম্বর

 

টিন পো জেলার আটটি টাওয়ারে ধ্বংসস্তূপ—তিনজন গ্রেফতার, উদ্ধার অভিযান রাতভর চলেছে

হংকংয়ের তাই পো (Tai Po) জেলা বুধবার বিকেলে পরিণত হয় মৃত্যুকূপে। বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিংয়ে আগুন লাগা থেকে শুরু হয়ে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আটটি উচ্চভবনের মধ্যে সাতটিতে। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৪৪ জনের, আর নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩০০ জন বাসিন্দা—যা গত তিন দশকের মধ্যে হংকংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

৩২ তলা উঁচু এক আবাসনের চালু সংস্কারকাজের সময় বহির্ভাগে থাকা বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিংয়ে হঠাৎ আগুন লাগে। দাহ্য নির্মাণ জাল, তীব্র বাতাস এবং পরস্পর ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকা টাওয়ারের ফাঁক দিয়ে আগুন চিমনি–প্রবাহের মতো উপরে উঠে টাওয়ার থেকে টাওয়ারে ছড়িয়ে পড়ে।
দ্রুতই আকাশ ভরে যায় কালো ধোঁয়ায়, চারদিকে উড়তে থাকে জ্বলন্ত বাঁশ ও ধ্বংসাবশেষ।

প্রায় ৯০০ বাসিন্দাকে তড়িঘড়ি বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের বেশিরভাগই ছিলেন বয়স্ক মানুষ, যাঁরা হঠাৎ আগুনে প্রাণে বাঁচতে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন।

ঘটনাস্থলে ১৪০টিরও বেশি ফায়ার ইঞ্জিন ও ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। দমকলকর্মীরা উপরতলার দিকে জল ঢালতে এয়ারিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তীব্র তাপ, পড়ন্ত ধ্বংসস্তূপ ও ভেঙে পড়া স্ক্যাফোল্ডিং উদ্ধারকাজকে প্রায় অসম্ভব করে তোলেছিল।

দুর্ভাগ্যবশত, এই অভিযানেই প্রাণ হারান এক দমকলকর্মী। তাঁর মৃত্যুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারসহ আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

হংকং পুলিশ জানিয়েছে, অবহেলার কারণে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হংকংয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ জন লি জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস মিলিতভাবে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে আগুনের উৎস হিসেবে বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিংয়ের শর্ট সার্কিট বা মানবিক ত্রুটির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হংকং ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর (অপারেশন) ডেরেক আর্মস্ট্রং চ্যান জানান, ভবনের ভিতরে এত উচ্চ তাপমাত্রা এবং ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধারকারী দল একতলা থেকে আরেকতলা এগোতে ভয়ংকর সমস্যার মুখে পড়ছে।
এখনও ৪৫ জন হাসপাতালে ভর্তি, বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

১৯৯৬ সালের নভেম্বরের আগুনে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তিন দশক পরে সেই রেকর্ড ছাপিয়ে গেল তাই পো–র এই বিপর্যয়।

১৯৮০–র দশকে নির্মিত এই আটটি টাওয়ার সম্প্রতি বড় মাপের সংস্কার কাজের মধ্যেই ছিল। স্ক্যাফোল্ডিং পুরো ভবনকে ঘিরে ছিল। মাঝে সামান্য ফাঁক থাকলেও তীব্র বাতাস এবং দাহ্য নির্মাণ–নেটিং আগুনকে মুহূর্তে এক টাওয়ার থেকে অন্যটিতে নিয়ে যেতে সাহায্য করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দমকল বিভাগ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণের দিকে গেলেও অগ্নিনির্বাপণ সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। ভস্মীভূত ফ্ল্যাট, ভাঙা সিঁড়ি এবং বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে রাতভর নিখোঁজদের সন্ধান চলছে।

সরকার আশ্রয়কেন্দ্র—খাদ্য, পোশাক, চিকিৎসা সহায়তা—সমস্ত কিছুই দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks