কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৯ নভেম্বর
৩৬ বছরের দীর্ঘ পালানোর পর অবশেষে আইনের জালে ধরা পড়লেন প্রদীপ সাক্সেনা—যিনি আজ বহু বছর ধরে পরিচিত ছিলেন আব্দুল রহিম নামে। ধর্ম, নাম, পরিচয়, এমনকি চেহারাও বদলে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের চোখে ধুলো দিতে পারলেন না। খুনের সাজাপ্রাপ্ত সে আসামিকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ টিম গ্রেফতার করেছে মোরাদাবাদ থেকে।
ঘটনা পুরনো, কিন্তু রহস্য নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়ায়। আর সেই সূত্র ধরেই বেরিয়ে আসে লুকিয়ে থাকা প্রদীপের আসল পরিচয়।
১৯৮৭ সালের সেই খুন—দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন প্রদীপ ,পুলিশ সূত্রে জানা যায়—
১৯৮৭ সালে নিজের দাদাকে খুন করার অভিযোগ ওঠে প্রদীপ সাক্সেনার বিরুদ্ধে। দীর্ঘ তদন্তের পর ১৯৮৯ সালে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। ঘোষিত হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
কারাগারে কয়েক বছর কাটানোর পর প্রদীপ প্যারোলে মুক্তি পান। আর ঠিক সেই সুযোগই কাজে লাগান তিনি। প্যারোল শেষে জেলে ফেরার কথা ছিল—কিন্তু সে আর হল না। পালিয়ে যান তিনি, নজর এড়ান পুলিশি তৎপরতা।
পুলিশের এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান—
-
বরেলী থেকে পালিয়ে প্রথমে মোরাদাবাদে আশ্রয় নেন প্রদীপ
-
সেখানে গিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করেন
-
নতুন নাম নেন—আব্দুল রহিম
-
দাড়ি লম্বা রেখে, পোশাক-পরিচ্ছদ বদলে একেবারে পরিবর্তিত চেহারায় ঘুরতেন তিনি
-
স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গাড়িচালক
-
এমনকি এক মুসলিম মহিলাকে বিয়ে করে পরিবারও গড়ে তুলেছিলেন
সাধারণ জীবনযাপনের আচ্ছাদনে তিনি এতটাই মিশে গিয়েছিলেন স্থানীয় সমাজে যে কেউ কল্পনাই করতে পারেনি তাঁর পিছনে রয়েছে রক্তাক্ত অতীত।
সম্প্রতি সেই বহু পুরনো মামলাটি আবার ওঠে এলাহাবাদ হাইকোর্টে। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—
চার সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্তকে হাজির করতে হবে।
এবার চাপ বাড়ে বরেলী পুলিশের উপর। শুরু হয় নতুন করে তদন্ত। খোয়া যাওয়া সেই পুরনো মামলার ফাইল ধুলো ঝেড়ে আবার খোলা হয়। গঠন করা হয় বিশেষ দল।
পুলিশ প্রথমে যোগাযোগ করে প্রদীপের ভাই সুরেশ সাক্সেনার সঙ্গে। জানতে পারে—
-
প্রদীপ বছর খানেক আগে বরেলীতে গোপনে এসেছিলেন
-
তিনি নিজের নাম, ধর্ম ও চেহারা বদলে ফেলেছেন
পুলিশ সুরেশের গতিবিধিতেও নজর রাখতে শুরু করে। পাশাপাশি আশপাশের জেলার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় মেলে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র— প্রদীপ আসলে মোরাদাবাদেই রয়েছেন, কিন্তু ভিন্ন পরিচয়ে।
মোরাদাবাদ পুলিশের সহযোগিতায় অবশেষে ধরা পড়েন প্রদীপ ওরফে আব্দুল।
প্রথমে তিনি কিছুতেই স্বীকার করতে চাননি যে তিনিই প্রদীপ সাক্সেনা।
কিন্তু বিশেষ দলের লাগাতার জেরা ও তথ্যপ্রমাণের সামনে শেষমেশ স্বীকারোক্তি দিতেই বাধ্য হন।
প্রসঙ্গত মোরাদাবাদে প্রদীপ ওরফে আব্দুল—একটি মুসলিম পরিবারে বিয়ে করে সংসার করেছিলেন ,গাড়িচালকের কাজ করতেন ,স্থানীয় সমাজে শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন
কিন্তু আইনের চোখে পালিয়ে থাকা দণ্ডিত আসামির কোনও নয়া পরিচয়ই গ্রহণযোগ্য নয়—এই বার্তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল।
৩৬ বছরের লুকোচুরি শেষে গ্রেফতার প্রদীপ সাক্সেনা। নাম বদলে, ধর্ম পাল্টে, জীবন নতুন করে গড়ে তুলে—সব কৌশলই ব্যর্থ হল।
এক কোথায় আইনের হাত লম্বা—পালিয়ে বাঁচা যায় না , এই সত্যই আবারও প্রমাণিত হল এই ঘটনায়।




