spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

অতিবেগে সফল ‘ইজেকশন সিস্টেম’ পরীক্ষা: যুদ্ধবিমানের পাইলট সুরক্ষায় বড় মাইলস্টোন DRDO-র !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৩ ডিসেম্বর

দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণায় আরও এক বড় সাফল্য। ডিআরডিও (DRDO) সফলভাবে সম্পন্ন করল যুদ্ধবিমানের ‘ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট এস্কেপ সিস্টেম’-এর উচ্চগতির রকেট স্লেড পরীক্ষা। মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চণ্ডীগড়ের টার্মিনাল ব্যালিস্টিক্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির (TBRL) রেল ট্র্যাক রকেট স্লেড ফ্যাসিলিটি-তেই এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এই পরীক্ষায় একযোগে কাজ করেছে Aeronautical Development Agency (ADA) এবং Hindustan Aeronautics Limited (HAL)। পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়—
 * ক্যানোপি বিচ্ছেদ (Canopy Severance)
 * ইজেকশন সিকোয়েন্সিং
* সম্পূর্ণ এয়ারক্রু উদ্ধার প্রক্রিয়া

এ সবই যুদ্ধক্ষেত্র বা উড্ডয়ন ত্রুটিতে পাইলটের জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে—স্ট্যাটিক টেস্ট বা নেট টেস্ট, জিরো-জিরো টেস্টের তুলনায় ডায়নামিক ইজেকশন টেস্ট অনেক বেশি জটিল ও বাস্তবসম্মত। কারণ এই পরীক্ষায় প্রকৃত উড্ডয়নের মতো উচ্চগতিতে পুরো প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করা হয়।

এক ডুয়াল-স্লেড সিস্টেমে এলসিএ (LCA) লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্টের ফর-বডি অংশকে বসিয়ে
ধাপে ধাপে একাধিক রকেট মোটরের সাহায্যে নির্দিষ্ট গতিতে চালিত করা হয়।
এর ফলে বাস্তব উড়ানের পরিস্থিতির কাছাকাছি পরিস্থিতি তৈরি করা যায়।

পসাপসী পরীক্ষার সময়ে মানবদেহের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত Anthropomorphic Test Dummy ব্যবহার করে সিমুলেশন করা হয় পাইলটের অভিজ্ঞতা। ডামির শরীরে যুক্ত সেন্সর রেকর্ড করে—

  • গতি (acceleration)

  • চাপ (loads)

  • মুহূর্ত (moments)

  • আঘাত

এইসব তথ্য দেখায়—পাইলট ইজেকশনের সময় কী ধরনের বল অনুভব করেন এবং সিস্টেম কতটা নিরাপদ।

পুরো ঘটনাটি ধারণ করা হয় অনবোর্ড ক্যামেরা এবং গ্রাউন্ড বেসড ইমেজিং সিস্টেমে।
দেশের বিমান বাহিনী (IAF), ইন্সটিটিউট অফ অ্যারোস্পেস মেডিসিন এবং সার্টিফিকেশন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং DRDO, ADA, HAL, ভারতীয় বায়ুসেনা ও সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলিকে এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য—

“পাইলট সুরক্ষায় ভারতীয় প্রযুক্তির সক্ষমতা আরও দৃঢ় হল। এই সাফল্য ভারতীয় বিমান নির্মাণ প্রযুক্তির ভবিষ্যতকে আরও শক্তপোক্ত করবে।”

প্রসঙ্গত বলা যায় এই ধরনের ইজেকশন সিস্টেমের সাফল্য প্রমাণ করে—

  • ভবিষ্যতের টেজস (LCA) এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা উড়ানযানে পাইলট সুরক্ষা আরও বাড়বে

  • যুদ্ধক্ষেত্রে ত্রুটি দেখা দিলে পাইলটের বাঁচার সম্ভাবনা থাকবে বহু গুণ বেশি

  • বিমান নির্মাণে ভারত ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোল

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষা ভারতীয় বিমান প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বড় মাইলস্টোন।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks