spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

তৃণমূলের বড় শাস্তি: সাসপেন্ড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৪ ডিসেম্বর

ধর্মীয় মন্তব্যে উত্তাল রাজনীতি, কী জানাল দল ?

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেন রাজ্যের মন্ত্রী ও দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ফিরহাদ হাকিম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান— “দলের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের আর কোনও সম্পর্ক থাকবে না। ধর্মের নামে যাঁরা বিভাজনের রাজনীতি করেন, তাঁদের সঙ্গে তৃণমূল কোনওভাবেই থাকতে পারে না।”

ফিরহাদ জানান, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়–এর সম্মতি নিয়েই দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এই কঠোর পদক্ষেপ করেছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হুমায়ুন কবীরের এক ঘোষণাকে ঘিরে। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় তিনি “বাবরি মসজিদ”-এর শিলান্যাস করবেন। শুধু তাই নয়, সেই কাজে প্রশাসন বাধা দিলে রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক অবরোধের হুমকিও দেন।

এখানেই শেষ নয়—এক মহকুমা পুলিশ আধিকারিককে (এসডিপিও) উদ্দেশ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়—

“আগুন নিয়ে খেলতে আসবেন না। যে দিন আপনার কলার ধরব, সে দিন আপনাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।”

এই মন্তব্যের জেরে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপি তীব্র সমালোচনা করে। এক তৃণমূল নেতা জানান—
“মমতা ও অভিষেক বারবার ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির কথা বলেন। হুমায়ুনের মন্তব্য তৃণমূলের মূল আদর্শের বিরোধী।”

অপরদিকে বিষয়টি নিয়ে সরব হন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি চিঠি দিয়ে রাজ্য সরকারকে জানান—হুমায়ুনের মন্তব্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে তাঁকে প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট করা উচিত। জবাবে হুমায়ুন বলেন—“রাজ্যপাল তাঁর এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কথা বলছেন।”

প্রসঙ্গত দলীয় মহলে ইতিমধ্যেই অস্বস্তি বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার দল ঘোষণা করে—

হুমায়ুন কবীর সাসপেন্ড।

যদিও এ বিষয় ফিরহাদ হাকিম জানান—

“বাংলা ঐক্যের জায়গা। এখানে সব সম্প্রদায় একসঙ্গে থাকে। হঠাৎ একজন দাবি করছেন তিনি ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরি করবেন! বাবরি মসজিদ অযোধ্যায় ছিল, বাংলায় নয়। বাংলায় যে কেউ মন্দির-মসজিদ করতে পারেন, কিন্তু ধর্মান্ধতা ছড়ানোর রাজনীতি চলবে না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন—
“বিজেপির প্ররোচনাতেই হুমায়ুন এমন বক্তব্য দিয়েছেন।”
এবং জানান, আগেও দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তাঁকে তিনবার সতর্ক করেছিল।

তৃণমূলের সিদ্ধান্তের  পর হুমায়ুন কবীরের কাছে সাংবাদিকরা তাঁর  প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন—

“আমি ফিরহাদ হাকিমকে তৃণমূলের নেতা বলেই মানি না। আমার নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা আমাকে কিছু বলেননি। ববি হাকিমের মন্তব্যের জবাব দেব না।”

তাঁর এই প্রতিক্রিয়া রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

● তৃণমূলের কঠোর সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট বার্তা—
ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি বরদাস্ত নয়।
● এদিকে বিজেপির দাবি—
তৃণমূল ভাঙন আটকাতে মরিয়া হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
● তৃণমূলের বক্তব্য—
দলের নীতি রক্ষাই সর্বাগ্রে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks