কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৪ ডিসেম্বর
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দু’দিনের সফরে পৌঁছলেন নয়া দিল্লিতে। প্রায় আট দশকের পুরনো ভারত–রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই তাঁর এই সফর। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আবহে, বিশেষত ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের পটভূমিতে পুতিনের এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লিতে পৌঁছনোর পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুতিনকে ব্যক্তিগত নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রথম পর্বের আলোচনা সারেন। শুক্রবার ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সূত্রের খবর, ভারত–রাশিয়া শীর্ষ বৈঠকে এ বার মূল ফোকাস তিনটি বিষয়ের উপর—
-
দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও যৌথ উৎপাদন বাড়ানো,
-
ভারত–রাশিয়া বাণিজ্যকে বহিরাগত চাপ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে দূরে রাখা,
-
ছোট আকারের মডুলার নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা—যা আগামী দিনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ভারত–রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বরাবরই দৃঢ়। এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান প্রকল্পে দুই দেশের যৌথ অংশীদারিত্ব রয়েছে। নতুন সহযোগিতা বাড়ানোরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় স্বাগত। এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে যৌথ বৈঠক হবে হায়দরাবাদ হাউসে। সেখানেই হবে কার্যকরী মধ্যাহ্নভোজ এবং কূটনৈতিক দলের বৈঠক। পুতিন সকালে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনও করবেন।
বৈঠকের শেষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে—বিশেষত বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংক্রান্ত নথি।
অন্যদিকে এই সফরে পুতিনের অন্যতম বড় অনুষ্ঠান—ভারতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার নতুন ভারত-নির্ভর চ্যানেল উদ্বোধন। আন্তর্জাতিক মিডিয়া সহযোগিতা ও বর্ণনার লড়াইয়ের সময়কালে এই সিদ্ধান্তকে বিশেষ তাৎপর্যের চোখে দেখা হচ্ছে।
সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেবেন পুতিন। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তাঁর ভারতে সফর শেষ হবে।
অপয়রদিকে বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে ২২তম ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকারি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিশনের বৈঠকে মিলিত হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলৌসভ।
তিনি বলেন—
-
ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক বিশ্ব পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও গভীর হয়েছে,
-
দুই দেশের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ,
-
দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় ভারত–রাশিয়া অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের তিন বাহিনীর প্রধান—
-
চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান,
-
আর্মি চিফ জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী,
-
এয়ার চিফ এয়ার মার্শাল অমনপ্রীত সিংহ,
-
নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল দিনেশ ত্রিপাঠী।
বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনীতির ঢেউয়ে ভারতে পুতিনের সফর অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, শক্তি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দিনের ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—এই সফর সেই দিশা দেখাবে বলে কূটনীতিকদের মতে।




