কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৫ ডিসেম্বর
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় পদক্ষেপ নিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। রাজ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩,৪৮,০৯৫— এমনটাই জানাল বৃহস্পতিবার CEO দফতর। এ ছাড়া লক্ষ লক্ষ অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারের তথ্যও উঠে এসেছে নতুন আপডেটেড ডেটাতে।
এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া ও প্রকৃত ভোটারদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে নির্বাচন কমিশন চালু করল নতুন সফটওয়্যার— “Demographic Similar Entries”। বৃহস্পতিবার থেকেই এটি ব্যবহার শুরু করেছেন প্রতিটি জেলার ERO-রা।
মৃত, অনুপস্থিত ও ভুয়ো ভোটার: সংখ্যা কত?
CEO মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে পর্যন্ত ‘Uncollectable Form’ জমা পড়েছে ৫২,৯৯,৬৩৩। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে পাওয়া গিয়েছে—
-
মৃত ভোটার – ২৩,৪৮,০৯৫
-
স্থানান্তরিত – ১৮,৫৫,৩০২
-
অনুপস্থিত – ৯,৪২,১৬২
-
অন্যান্য – ৩১,৮০১
এই চার শ্রেণির মিলিত সংখ্যাই প্রায় ৫৩ লক্ষ। অর্থাৎ এতজন ভোটারের নাম এখনো সঠিকভাবে মিলছে না, যাঁদের ট্র্যাক করতে নতুন সফটওয়্যার বড় ভূমিকা নেবে।
কীভাবে কাজ করবে নতুন সফটওয়্যার?
CEO অফিস জানিয়েছে, সফটওয়্যারটি কাজ করবে ডেমোগ্রাফিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে। অর্থাৎ—
-
নাম, ঠিকানা, বয়স, পারিবারিক তথ্য – এগুলোর মিল খুঁজবে
-
যেসব এন্ট্রিতে সন্দেহজনক মিল থাকবে, সেগুলোকে ভুয়ো বা পুনরাবৃত্ত হিসেবে চিহ্নিত করবে সফটওয়্যার
-
সংশ্লিষ্ট ERO-রা এলাকাভিত্তিক এই তালিকা যাচাই করবেন
-
পরবর্তী ধাপে DEO পুরো জেলার তালিকা পরীক্ষা করতে পারবেন
-
আর রাজ্যের CEO নজর রাখবেন পুরো রাজ্যের উপর
-
জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকবে দেশজুড়ে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিতকরণের অ্যাক্সেস
অর্থাৎ প্রথমবার প্রযুক্তির মাধ্যমে ত্রিস্তরীয় যাচাইকরণ ব্যবস্থা তৈরি হল।
কেন এই সফটওয়্যার জরুরি?
রাজ্যে SIR চলছে, ফর্ম জমা নেওয়ার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে আরও সাত দিন। ভোটার তালিকা ক্রমাগত আপডেট রাখতে:
-
মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া
-
একই পরিচয়ে তৈরি ভুয়ো এন্ট্রি শনাক্ত করা
-
স্থানান্তরিত ভোটারের নাম সংশোধন করা
-
পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ নাম বাদ দেওয়া
এগুলোর জন্য সফটওয়্যারটি অত্যন্ত কার্যকরী হবে, বলছে কমিশন।
CEO মনোজ আগরওয়াল বলেন,
“ভোটার তালিকা যাতে একশো শতাংশ স্বচ্ছ থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এতে কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই ERO-রা আরও দক্ষতার সঙ্গে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করতে পারবেন।”
অন্যদিকে এই সংখ্যা ভোটার তালিকায় একটি বড় ফাঁক সামনে আনে। এর মানে—
-
বহু নাম পুরোনো বা অকেজো
-
অনেকেই আর ওই ঠিকানায় থাকেন না
-
মৃত ভোটারের নাম বহু বছর বাদ পড়েনি
-
বহু নাম নকল বা পুনরাবৃত্ত
ফলে নির্বাচন কমিশন চাইছে, ২০২5 সালের ভোটের আগে ভোটার তালিকা যেন পুরোপুরি সঠিক ও সন্দেহমুক্ত হয়।




