কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৭ ডিসেম্বর
কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড রবিবার সকাল থেকেই পরিণত হয়েছিল ভক্তি–আধ্যাত্মিকতার এক বিশাল মিলনমেলায়। সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ কর্মসূচিতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, এমনকি বাংলাদেশ ও নেপাল থেকেও হাজার হাজার ভক্ত উপস্থিত হন।
সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত চলে এই আধ্যাত্মিক পাঠ। ভক্তদের ঢল সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও বিশেষ নির্দেশে খোলা হয় মোট ২৫টি প্রবেশদ্বার।
মহাসমারোহ উপলক্ষে ব্রিগেডে তৈরি করা হয় তিনটি পৃথক মঞ্চ—
১. প্রধান ‘পার্থসারথি মঞ্চ’
এখানেই বসেন প্রায় ১৫০ জন সাধু–সন্ত। প্রধান গীতাপাঠ হয় এখান থেকেই।
২. ‘চৈতন্য মহাপ্রভু মঞ্চ’
মূল মঞ্চের বাঁ পাশে বিশেষ বৈদিক গীতাপাঠের আসন।
৩. ‘শঙ্করাচার্য মঞ্চ’
ডানদিকে স্থাপিত এই মঞ্চে চলেছে উপনিষদ ও গীতা ভিত্তিক আলোচনা।
উদ্যোক্তা কার্তিক মহারাজ বলেন,
“আয়োজন একেবারে পূর্ণাঙ্গ। রাজ্যের সর্বত্র থেকে মানুষ আসছেন। কোনও অসুবিধা হয়নি, রাজ্য সরকারের সহযোগিতাও পাচ্ছি।”
রবিবার ভোর থেকেই হাওড়া স্টেশন এলাকা ভরে ওঠে দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের পদচারণায়।
-
স্টেশন থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত লম্বা লাইন
-
কেউ ছোট গীতা বিলোচ্ছেন
-
কেউ খোল–করতাল বাজিয়ে জপ–কীর্তন করতে করতে এগোচ্ছেন গঙ্গার দিকে
হাওড়ায় সনাতন সংস্কৃতি সংসদের তরফে দু’টি সহায়ক ক্যাম্পে—
-
জল
-
প্রাথমিক চিকিৎসা
-
বসার ও বিশ্রামের জায়গা
—সবই প্রস্তুত ছিল।
ফেরিঘাটে ছিল অতিরিক্ত পুলিশ। ভক্তদের বক্তব্য—
“সমাজে শান্তি, সাম্য আর ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা ছড়াতেই এই গীতাপাঠ।”
অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়িতে বা টোটোতে এসেছেন।
বৈদ্যবাটি থেকে পাঁচ যুবক সাইকেল চালিয়ে ব্রিগেডে হাজির।
হাতে ছোট বই—যাত্রাপথে গীতা বিলিয়েছেন পথচারীদের।
এই ধর্মীয় জমায়েতে হাজির ছিলেন—
-
শুভেন্দু অধিকারী
-
সুকান্ত মজুমদার
-
তথাগত রায়
-
লকেট চট্টোপাধ্যায়
যদিও আয়োজকদের দাবি,
“এ আয়োজন ধর্মীয়, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।”
বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন,
“নির্বাচনের সঙ্গে গীতাপাঠের কোনও সম্পর্ক নেই। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকবে। হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করে না, কারণ জানে—জবাই করবে।”
অন্যদিকে মঞ্চ থেকেই লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন,
“আজ ৫ লক্ষ হচ্ছে, কাল ৫ কোটি হবে।”
লোকসভা ভোটের আগে গত বছর ব্রিগেডেই হয়েছিল ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’।
এবার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই আবার এত বড় ধর্মীয় সমাবেশ।
রাজনৈতিক মহলে তাই তা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য স্পষ্ট—
“এটি শুধুই ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এর কোনও রাজনৈতিক অভিপ্রায় নেই।”




