কলকাতা টাইমস নিউজ :নিউজ ডেস্ক :কলকাতা :০১ জানুয়ারি ২০২৬
তামাক ও পানের মশলার মতো ‘সিন গুডস’-এর উপর বড়সড় কর সংস্কারের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন করব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিগারেট, তামাক, পানের মশলা ও অনুরূপ পণ্যে জিএসটির হার কার্যত বেড়ে যাবে, পাশাপাশি উঠে যাচ্ছে এতদিনের ‘কম্পেনসেশন সেস’। তার জায়গায় আসছে নতুন হেলথ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেস এবং অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক।
কোন পণ্যে কত কর?
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে—
-
পানের মশলা, সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে বসবে ৪০ শতাংশ জিএসটি
-
বিড়ির ক্ষেত্রে জিএসটি হার থাকবে ১৮ শতাংশ
এই করের হার কার্যকর হবে Goods and Services Tax ব্যবস্থার আওতায়। তবে এখানেই শেষ নয়—এই জিএসটির উপরেই বসবে অতিরিক্ত কর।
কম্পেনসেশন সেসের অবসান
এতদিন তামাক ও পানের মশলার উপর যে কম্পেনসেশন সেস আদায় করা হচ্ছিল, তা ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই তুলে নেওয়া হচ্ছে। তার বদলে—
-
পানের মশলার উপর বসবে হেলথ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেস
-
তামাক ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে বসবে অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি (Excise Duty)
সরকারের বক্তব্য, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই অতিরিক্ত সেস আরোপের সিদ্ধান্ত।
নতুন নিয়মের বিজ্ঞপ্তি
বুধবার কেন্দ্রীয় Ministry of Finance ‘Chewing Tobacco, Jarda Scented Tobacco and Gutkha Packing Machines (Capacity Determination and Collection of Duty) Rules, 2026’ নামে নতুন নিয়মের বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে। এই বিধির মাধ্যমে প্যাকিং মেশিনের ক্ষমতা অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ ও আদায়ের পদ্ধতি আরও কড়া করা হচ্ছে।
সংসদের অনুমোদন আগেই
গত ডিসেম্বর মাসে Parliament of India-র শীতকালীন অধিবেশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ হয়। সেই বিলের মাধ্যমেই—
-
পানের মশলার উপর হেলথ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেস
-
তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক
আরোপের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।
কেন্দ্রের যুক্তি, তামাক ও পানের মশলার মতো পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কর বাড়ালে একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়বে, তেমনই এই পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে তামাকজাত দ্রব্যের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তাদের পকেটে।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন করব্যবস্থা তামাক ও পানের মশলা শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব—দু’দিক সামলাতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে কেন্দ্র। এখন দেখার, দাম বাড়লে ব্যবহার কতটা কমে এবং সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যে কতটা সাফল্য আসে।




