কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :০৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতকে ঘিরে উৎপাদন কৌশলে ঐতিহাসিক সাফল্য পেল মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা Apple। ২০২৫ সালে ভারত থেকেই প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৪.৫১ লক্ষ কোটি টাকা) মূল্যের iPhone রফতানি করেছে অ্যাপল। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী Ashwini Vaishnaw।
মন্ত্রী জানান, এটি শুধুই একটি বাণিজ্যিক সাফল্য নয়—বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির অধীনে ভারতের উৎপাদক অর্থনীতিতে রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র নেতৃত্বে ভারতে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য,
“ভারতকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পথে অ্যাপলের ৫০ বিলিয়ন ডলারের আইফোন রফতানি এক বড় পদক্ষেপ।”
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ৯ মাসেই ভারত থেকে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের আইফোন রফতানি হয়েছে।
২০২২ সালে কেন্দ্রের প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) প্রকল্পে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ভারতে উৎপাদন বাড়াতে জোর দেয় অ্যাপল। এর ফলস্বরূপ—
-
সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে
-
গড়ে উঠেছে শক্তিশালী স্থানীয় সাপ্লাই চেন
বর্তমানে দেশে ৫টি আইফোন উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে—
-
৩টি পরিচালনা করছে Tata Group
-
২টি পরিচালনা করছে Foxconn
এই কেন্দ্রগুলিকে ঘিরে প্রায় ৪৫টি সংস্থার সাপ্লাই চেন তৈরি হয়েছে, যার বড় অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME)।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, স্মার্টফোনের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারতের ইলেকট্রনিক্স শিল্পে এক অভূতপূর্ব উত্থান ঘটেছে।
-
গত ১১ বছরে উৎপাদন বেড়েছে ৬ গুণ
-
রফতানি বেড়েছে ৮ গুণ
-
বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স পণ্য ভারতের শীর্ষ তিন রফতানি সামগ্রীর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে
এছাড়াও দেশে ৪৬টি কম্পোনেন্ট উৎপাদন প্রকল্প চালু রয়েছে। ল্যাপটপ, সার্ভার ও ‘হিয়ারেবল’ (ইয়ারবাড, স্মার্ট ডিভাইস) নির্মাণও এই বৃদ্ধির বড় চালিকা শক্তি।
অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও জানিয়েছেন, চলতি বছরেই দেশে চারটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হলে ভারত বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স ভ্যালু চেনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।
৫০ বিলিয়ন ডলারের আইফোন রফতানি শুধু অ্যাপলের সাফল্য নয়—এটি ভারতের শিল্পনীতি, উৎপাদন পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ যে কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলছে—এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।




