কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :০৯ জানুয়ারি ২০২৬
ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও এক ধাক্কা। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে ভারতে নিজেদের একাধিক কূটনৈতিক মিশনে ভিসা পরিষেবা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বাংলাদেশের বিদেশনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা M. Touhid Hossain।
বিদেশ মন্ত্রকের দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এম. তৌহিদ হোসেন বলেন,
“নিরাপত্তার স্বার্থেই আমি ভারতে আমাদের তিনটি মিশনকে আপাতত ভিসা বিভাগ বন্ধ রাখতে বলেছি।”
এই সিদ্ধান্তের ফলে—
-
নয়াদিল্লি
-
কলকাতা
-
আগরতলা
এই তিন শহরে বাংলাদেশের ভিসা পরিষেবায় কড়া বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতেই কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন ভিসা পরিষেবা সীমিত করেছিল।
বাংলাদেশ সূত্রে জানা গিয়েছে—
-
নয়াদিল্লি ও আগরতলা: পর্যটন ও সাধারণ ভিসা পরিষেবা বন্ধ, তবে ব্যবসায়িক ও কাজের ভিসা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই
-
কলকাতা: ভিসা পরিষেবা রাতারাতি সীমিত
-
মুম্বই ও চেন্নাই: আপাতত ভিসা পরিষেবা চালু রয়েছে
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয় ২০২৪ সালের জুলাই–অগস্টে। ছাত্র আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-র আওয়ামি লিগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। তার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হয়ে ওঠে।
এর পর ৫ অগস্ট ২০২৪-এর পর ভারতও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করে।
একই সাংবাদিক বৈঠকে তৌহিদ হোসেন জানান, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যে ভিসা বন্ড চালু করেছে, তা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে ঢাকা।
এই সিদ্ধান্তকে তিনি বলেন,
“নিশ্চিতভাবেই এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক ও বেদনাদায়ক।”
তবে তিনি এও স্বীকার করেন, এই নিয়ম শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়—অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যায় থাকা আরও কয়েকটি দেশের উপরও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
সাংবাদিকরা বাংলাদেশের পাকিস্তানের কাছ থেকে JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন,
“এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। আলোচনা চলছে। সব চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।”
ভারতে ভিসা পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়—বরং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান শীতলতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। এর প্রভাব সাধারণ যাত্রী, পর্যটক এবং সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির উপর কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর।




