কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : কলকাতা :১০ জানুয়ারি ২০২৬
ভারত–মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপড়েনের আবহেই শুক্রবার ভারতে পৌঁছলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মনোনীত Sergio Gor। আগামী ১২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা তাঁর। দিল্লিতে পৌঁছেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (X) এক বার্তায় তিনি ভারত ও আমেরিকার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গোর লেখেন,“ভারতে আবার ফিরে দারুণ লাগছে! আমাদের দুই দেশের সামনে রয়েছে অসাধারণ সব সুযোগ।”

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট।
সার্জিও গোরের ভারতে আগমনের কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট করে জানায়, ভারত এখনও আমেরিকার সঙ্গে ‘সুষম’ (balanced) বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটেই উঠে আসে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী Howard Lutnick-এর বক্তব্য। তিনি দাবি করেন, ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার কারণ হল— ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে ফোন করে চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেননি। এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি—
-
রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিল সমর্থন করেন
-
ভারত-নেতৃত্বাধীন International Solar Alliance (ISA)-সহ অন্তত ৬৫টি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন
এই সিদ্ধান্তগুলিও ভারত–মার্কিন সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সার্জিও গোরের এটাই প্রথম ভারত সফর নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে, মার্কিন সিনেট কর্তৃক রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ছয় দিনের সফরে ভারতে এসেছিলেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর , বিদেশমন্ত্রী S. Jaishankar-এর
সব মতানৈক্য সত্ত্বেও ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও বন্ধ হয়নি। গত বছর এই চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে বৈঠক করেছিলেন— বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী Piyush Goyal,বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, যদিও দুই দেশই দাবি করছে, আলোচনার দরজা এখনও খোলা।
সার্জিও গোরের এই সফর শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—বরং ভারত–মার্কিন সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের প্রস্তুতি বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বাণিজ্য, শুল্ক, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক জোট—সব মিলিয়ে আগামী দিনে এই সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তার দিকেই এখন নজর।




